পৃথিবীর অনেক দেশেই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে । ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের দাপট চলছে পুরো বিশ্বে। শুধু বিশ ওভারেই নয়, টি-টেন লিগের বিস্তারও বেড়েছে আর সেসব টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের চাহিদাও বেড়েছে। এই অবস্থায় ওয়ার্কলোডের ভিত্তিতে ক্রিকেটারদের অনাপত্তিপত্র দেওয়ার চিন্তা ভাবনা করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
সাকিব আল হাসান ও লিটন দাস কানাডার গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি লিগে খেলছেন । জিম আফ্রো টি-টেনে খেলছেন তাসকিন আহমেদ ও মুশফিকুর রহিম। চলতি মাসে শুরু হচ্ছে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ যেখানে বাংলাদেশের মোহাম্মদ মিঠুন, সাকিব আল হাসান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, তাওহীদ হৃদয় সুযোগ পেয়েছেন।
ক্রিকেটারদের ওয়ার্কলোড ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ততা মাথায় রেখে ক্রিকেটারদের অনাপত্তিপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে বিসিবিকে এক সাথে অনেক কিছু বিবেচনা করতে হচ্ছে ।
বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেছেন,‘অবশ্যই আমাদের ক্রিকেটের জন্য এটি একটি ইতিবাচক দিক যে, ক্রিকেটাররা বাইরের বিভিন্ন লিগে ডাক পাচ্ছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বোর্ড যেটা করছে, প্রতিটি ক্রিকেটারের ওয়ার্কলোড এবং তাদের প্রিভিয়াস পার্টিসিপেশন ও ফিউচার পার্টিসিপেশন- সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে আমরা অনাপত্তিপত্র দেওয়ার পরিকল্পনা করেছি। সেভাবেই আমাদের ক্রিকেটারদের অনাপত্তিপত্র দেওয়া হচ্ছে।’
সুজন আরো বলেছেন, ‘এর আগে আমাদের একটা পলিসি ছিল যে, (বছরে) সর্বোচ্চ দুইটা লিগে আমরা অনুমতি দেবো। কিন্তু এখন যেভাবে ঘরোয়া লিগ হচ্ছে, এর ফলে লিগের সংখ্যায় না গিয়ে ওয়ার্কলোডটকে বিবেচনায় নিচ্ছি। আন্তর্জাতিক এপিয়ারেন্স, ডোমেস্টিক লিগ খেলার জন্য যে ওয়ার্কলোড দরকার সেসব বিবেচনা করে এবং ফিউচার যে টুর্নামেন্টগুলো আছে, সেগুলোতে অংশগ্রহণও আরেকটি বিবেচনার বিষয়। সবগুলো বিবেচনা করেই আমরা ক্লিয়ারেন্স দিচ্ছি।’
তাসকিন আহমেদ প্রসঙ্গে বিসিবির প্রধান নির্বাহী বলেছেন, ‘লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগে এখন পর্যন্ত তাসকিনের বিষয়টা বিবেচনায় আছে। তার যে রিসেন্ট পার্টিসিপেশন ছিল, ওয়ার্কলোড বিবেচনা করে হয়তো এই লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগে বিষয়টাকে ভিন্নভাবে চিন্তা করছি। অন্যান্য প্লেয়ার যাদের প্রায় সবাইকেই আমরা ক্লিয়ারেন্স দিচ্ছি।’
যার ফলে ওয়ার্কলোড বিবেচনা করেই তাসকিন আহমেদ লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগে খেলার সুযোগটি হারাতে পারেন।
তাসকিন যদি না খেলতে পারেন, সেক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নে সুজন বলেছেন, ‘আগে আমরা অনাপত্তিপত্রের বিষয়টি ঠিক করি। তারপর এই ধরনের ক্ষতিপূরণ যেহেতু অতীতে দেওয়া হয়েছে, এটি আলোচনার বিষয় হতে পারে। তবে এই মুহূর্তে এটার ব্যাপারে বলতে পারবো না। এটা অবশ্যই বোর্ডের পলিসির ব্যাপার। বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে।’
