বন্ধুত্ব নিয়ে কিছু সিনেমা

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৩, ১৬:৪২

জাতিসংঘ ৩০ জুলাইকে আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস হিসেবে ঘোষণা করলেও ইন্ডিয়াতে তা পালন করা হয় আগস্ট মাসের প্রথম রবিবার।

বন্ধু শব্দটি আমাদের সবার জীবনের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। মন খারাপ কিংবা ভালো, দুঃখ ভাগ কিংবা সুখ উদযাপন, এমনকি দুর্দিনে পরিবারের পর নিঃস্বার্থভাবে পাশে থাকতে পারে এই বন্ধু নামক মানুষটি। 
তাইতো বন্ধু ক নিয়ে লিখা হয়েছে অসংখ্য গল্প,কবিতা গান। রচিত হয়েছে অনেক সিনেমা, টিভি সিরিজ। এমন কিছু সিনেমা আজ তুলে ধরার চেষ্টা করব আপনাদের সামনে।

দীপু নাম্বার টু

দীপু নাম্বার টু

প্রতি বছর দীপু নতুন স্কুলে ভর্তি হয় । বাবার করমস্থলের পরিবর্তনের জন্যই তাকে নতুন নতুন জায়গায় যেতে হয় । মা না থাকায় দীপুর বাবা দীপুকে ছোটবেলা থেকেই সাবলম্বী করে গড়ে তুলেছেন । বারবার পরিবেশের পরিবর্তন যে কোন কিশোরের জন্য কষ্টদায়ক হলেও দীপুর ছিলো মানুষের সাথে মিশতে পারার এবং নতুন পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেয়ার দারুণ ক্ষমতা । নতুন বন্ধু তৈরীতে দীপুর কোন সমস্যা ছিলো না । কিন্তু তাঁর ভালো লাগতো না, পুরোনো বন্ধুদের ছেড়ে আসতে ।

 

ক্লাসের দুষ্ট ছেলে তারেক । সবাই তারেককে এড়িয়ে চলে । তারেকের সাথে সবারই কোন না কোন গন্ডগোল বাধেই । দীপুর সাথেও ব্যাতীক্রম হয়নি । ব্যাপারতা মারামারি পর্যন্ত গড়ায় । যার ফলে ক্লাস টিচার এর কান পর্যন্ত নালিশ গিয়ে পৌছায় । কিন্তু দীপু ইচ্ছাকৃতভাবে তারেক এর নাম চেপে যায় । ব্যাপারটা তারেককে বেশ নাড়া দেয় । লজ্জিত করে । পরবর্তিতে তারেক হয়ে ওঠে দীপু আর ক্লাসের সবার ভালো বন্ধু ।ওদের ছোটখাটো একটা গ্রুপ তৈরী হয় । বনে বাদাড়ে অবসর সময়ে ছুটে বেড়ানোই তাদের কাজ । এভাবেই ঘুরাঘুরি করতে করতে তারা মুখোমুখী হয় একদল মুর্তি পাচারকারীদের সাথে । শুরু হয় যুদ্ধ, মোকাবেলা । স্মাগলাররা ধরা পড়ে পুলিশের হাতে, পত্রিকায় আসে কিশোরদের নাম ও ছবি । তারা হয়ে পড়ে "টক অভ দ্যা কান্ট্রি ।"কিন্তু এতকিছু কীভাবে সম্ভব । জানতে হলে দেখে দেলুন মুভিটা । কিছুক্ষণের জন্য হলেও ফিরে যাবেন নিজের কৈশরে 

প্রখ্যাত লেখক মুহাম্মদ জাফর ইকবালের কিশোর উপন্যাসের সার্থক রূপায়ন ‘দীপু নাম্বার টু’। ১৯৯৬ সালে এই উপন্যাসটিকে পর্দায় তুলে আনেন নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম।

থ্রি ইডিয়টস

থ্রি ইডিয়টস

বন্ধুত্বকে যেন নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে সমাজের তিনটি ভিন্ন শ্রেণি থেকে আসা তিন যুবক রাঞ্চো, ফারহান ও রাজু। বন্ধুত্ব নিয়ে সিনেমার প্রসঙ্গ উঠলেই সবার আগে অনেকের হয়ত এই নামটি মাথায় আসে। 
এই সিনেমার কিছু অংশ যেমন আপনাকে হাসাবে ঠিক কিছু অংশ আপনাকে উৎকণ্ঠিত করে তুলবে। 
ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণী থেকে উঠে আশা ৩ জন মানুষ এর গল্প নিয়ে মূলত এই সিনেমা। 
বন্ধুত্ব হলো জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা এই সিনেমার মাধ্যমে বুঝানো চেষ্টা করা হয়েছে। 
প্রযোজক বিধু বিনোদ চোপড়া আর পরিচালক রাজকুমার হিরানীর অসাধারণ এক উপহার ‘থ্রি ইডিয়টস’। চেতন ভগতের লেখা ‘ফাইভ পয়েন্ট সামওয়ান’ গল্প থেকে অনুপ্রাণিত সিনেমাটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে আমির খান, বোমান ইরানি, আর মাধবন ও শারমান জোশির অভিনয়।

জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা

জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা

২০১১ সালে বলিউডে মুক্তি পায় জোয়া আখতার পরিচালিত ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’। বলিউডে এমন কমেডি-ড্রামা এবং একইসঙ্গে ভ্রমণকেন্দ্রিক সিনেমা খুব কমই তৈরি হয়েছে। এই ছবি আসলে বন্ধুত্বের অন্যতম প্রতীক। ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ সিনেমায় দেখানো হয়, তিন বন্ধু প্রত্যেকেই নিজেদের সমস্যা নিয়ে এতটাই মশগুল যে, তারা ভুলেই যায় জীবন উদযাপনের হতে পারে। একটা সময় স্পেন ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেয় তারা। সেখানে গিয়ে তাদের জীবনে নতুন মোড় নেয়। নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের পাশাপাশি জীবনকে দেখার সংজ্ঞা পাল্টে দিতে পারার মতো গল্প যেন এই ছবি। ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ দেখার পর দর্শকেরা একবার হলেও নিজেদের জীবনের নতুন মানে খুঁজতে চাইবে।

ছিছোরে

ছিছোরে

প্রায় প্রতিটা গল্প আপনাকে সাফল্য নিয়ে বলবে। কিন্তু ছিছোরে বলবে কিছু হেরে যাওয়া মানুষ এর গল্প।

উচ্চপদস্থ পদে চাকরি করা সুশান্ত সিং রাজপুতের ছেলে ক্লাস ১২ পাশ করে জয়েন্ট এন্ট্রান্স দিয়েছে। তার মা (শ্রদ্ধা কাপুর) তার বাবার থেকে আলাদা থাকে। ছেলেটি থাকে তার বাবার সঙ্গে। পরীক্ষার ফলাফলের দিন রেজাল্ট দেখতে গিয়ে দেখে সে চান্স পায়নি। উঁচুতলার বাড়ির বারান্দা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। ভর্তি হয় আইসিইউ-তে।

ছেলের মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে এ বার কী করবে বাবা-মা? এক অভিনব উপায় বের করে তার বাবা। হাসপাতালের বিছানায় নাকে নল নিয়ে ছেলে যখন অচেতন, তার বাবা শুরু করে এক গল্প। তার কলেজের হস্টেল জীবনের গল্প। যেখানে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ত সে এবং শ্রদ্ধা। যেখানে তাকে এবং তার সঙ্গীদের বলা হত ‘লুজার্স’। কারণ তারা থাকত সব থেকে খারাপ হস্টেলে, কোনও কাজ পারত না এবং বছরের অ্যানুয়াল খেলার চ্যাম্পিয়ানশিপে অবধারিতভাবে হেরে যেত। সুশান্ত এবং তার সঙ্গীরা একবার শেষ চেষ্টা করে। তারা কি জেতে? তাদের ‘লুজার্স’ তকমা কি ঘোচে? গল্প শেষে সুশান্ত-শ্রদ্ধার ছেলে কি বেঁচে ওঠে?

রং দে বাসন্তী

রং দে বাসন্তী

পাঁচজন তরুণ ডিজে (আমির খান), কারান (সিদ্ধার্ত), সুকি (সারমান জোসি), আসলাম (কুনাল কাপুর) এবং পান্ডে (অতুল কুলকার্নি); তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া গল্প নিয়েই ‘রং দে বাসন্তী’র চিত্রনাট্য। ডিজে, কারান, সুকি ও আসলামের কাছে দুনিয়া হচ্ছে মাস্তি কি পাঠশালা। জীবনটা উপভোগ করে যাওয়াই তাদের কাছে সব। মৌজ মাস্তি, রং তামাশাই তাদের কাছে তারুণ্যের উদযাপন। এর বাইরে রাষ্ট্র-রাজনীতি, দেশ এসব নিয়ে ভাববার সময় তাদের নেই। বরং দেশ-রাজনীতি এসব তারা হাসি-ঠাট্টার বিষয় মনে করে। এভাবেই আনন্দ, হৈ-হুল্লোড় করে ওদের জীবন কাটছিলো। সিনেমায় মাস্তিতে মেতে থাকা এই তরুণদের পাশাপাশি দেখানো হয় আরেক চরিত্র, যার নাম পান্ডে। পান্ডে এক রাজনৈতিক দলের সদস্য। সে মনে করে, এই মৌজ-মাস্তি করা তরুণেরাই দেশকে রসাতলে নিয়ে যাচ্ছে, দেশের সংস্কৃতি বাদ দিয়ে বিদেশি সংস্কৃতিকে গ্রহণ করছে।

সিটি অব গড সিনেমা: ব্রাজিলের ফাভেলা অপরাধ ও দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতা

কাল্কি ঝড় বক্স অফিসে

ডেভিড কোরেন্সওয়েট নতুন ‘সুপারম্যান’

জানা গেল ‘মির্জাপুর থ্রি’ মুক্তির তারিখ

‘দ্য নাইট এজেন্ট’ নেটফ্লিক্সের শীর্ষে

বাংলাদেশে মুক্তির অনুমতি পেল ‘অ্যানিম্যাল’

আরও BUZZ

সেশ্যেলস আইল্যান্ডে নেচার ট্রেইল চ্যালেঞ্জের তৃতীয় আসর

সিটি অব গড সিনেমা: ব্রাজিলের ফাভেলা অপরাধ ও দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতা

আজকের খেলার সময়সূচি

আজকের যত খেলা

পিরামিড: মরুর বুকে লেখা অমরত্বের গল্প