কারা ফিরলেন, কারা ছিটকে গেলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে?

তাসকিন-লিটনের ফেরা, মুশফিকের চোট—নতুন সমীকরণে কতটা বদলাবে বাংলাদেশের ভাগ্য?

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:২১

নিজস্ব প্রতিবেদন | Bongobuzz | Sports

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে ঘিরে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে স্কোয়াড নির্বাচন, অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ভূমিকা এবং তরুণদের সুযোগ দেওয়ার প্রশ্ন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ড্র করার পর জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা দুই পরাজয় বাংলাদেশের দল নির্বাচন ও প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এর মধ্যেই শুরু হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ।

২৮ অক্টোবর মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া প্রথম টেস্টের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দলে ফিরেছেন পেসার তাসকিন আহমেদ ও উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাস। অন্যদিকে, চোটের কারণে শেষ পর্যন্ত প্রথম টেস্টের একাদশে জায়গা হয়নি অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিমের। ফলে ঘোষিত স্কোয়াডের পাশাপাশি শেষ মুহূর্তের একাদশ নির্বাচনও এখন আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশের ক্রিকেটে কি কেবল কয়েকটি পরিবর্তনই আসছে, নাকি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দল সাজানোর ধরনেও পরিবর্তন আনছে টিম ম্যানেজমেন্ট?

১. স্কোয়াডে সম্ভাব্য বড় পরিবর্তন ও নতুন মুখ

তাসকিন-লিটনের প্রত্যাবর্তন, মুশফিকের অনুপস্থিতি

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের জন্য ঘোষিত ১৫ সদস্যের দলে অধিনায়ক হিসেবে রয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তাঁর সঙ্গে আছেন শাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান তামিম, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয়, জাকের আলী, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান, তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, এবাদত হোসেন ও শরিফুল ইসলাম।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে বিশ্রামে থাকা তাসকিনের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের পেস আক্রমণে বাড়তি বিকল্প তৈরি করেছে। তবে স্কোয়াডে ফিরলেই একাদশে জায়গা নিশ্চিত হয় না। মিরপুরের কন্ডিশন, বোলারদের কাজের চাপ এবং প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপ বিবেচনা করে চূড়ান্ত একাদশ সাজানোই নির্বাচকদের পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

লিটন দাসের ফেরাও তাৎপর্যপূর্ণ। ডান হিপের চোটের কারণে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজে খেলতে পারেননি। পর্যবেক্ষণ ও ফিটনেস মূল্যায়নের পর তাঁকে প্রথম টেস্টের একাদশে রাখা হয়। তাঁর ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকেটকিপিংয়ের অভিজ্ঞতাও দলকে ভারসাম্য দিতে পারে।

তবে প্রথম টেস্টের আগে অনুশীলনে হাতে চোট পাওয়ায় মুশফিকুর রহিমকে শেষ পর্যন্ত একাদশের বাইরে রাখতে হয়েছে। তাঁর অনুপস্থিতিতে মিডল অর্ডারে তাওহীদ হৃদয়ের ওপর বাড়তি দায়িত্ব পড়েছে। এই পরিবর্তনটি পরিকল্পিত বিশ্রামের চেয়ে তাৎক্ষণিক পরিস্থিতির ফল—দুই বিষয়কে আলাদা করে দেখা জরুরি।

তরুণদের সুযোগ কতটা বাড়ছে?

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ দল গঠনের ক্ষেত্রে ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্সকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর দাবি দীর্ঘদিনের। জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল), ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ (ডিপিএল) এবং বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করা ক্রিকেটারদের জাতীয় দলের পরিকল্পনায় রাখা হলে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে।

চলতি টেস্ট সিরিজে নাঈম হাসানের অবস্থান এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। আফগানিস্তানের বিপক্ষে শুরুতে রিজার্ভ হিসেবে থাকলেও পরে একাদশে সুযোগ পান তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টেও তাঁকে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে একজন ক্রিকেটার পরবর্তী ম্যাচেও নির্বাচকদের আস্থা অর্জন করতে পারেন।

তবে শুধু তরুণ হওয়াই দলে জায়গা পাওয়ার যথেষ্ট কারণ নয়। দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে একজন ব্যাটারের ধৈর্য, উইকেটে টিকে থাকার ক্ষমতা, বোলারের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ। ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিসংখ্যানের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের মান, পিচের ধরন এবং পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতাও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

২. নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত ও টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনা

তিন স্পিনার, নাকি বাড়তি পেসার?

মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের একাদশে তিন স্পিনার—মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসান—রেখেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। পেস আক্রমণে রয়েছেন হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম। স্কোয়াডে থাকলেও তাসকিন ও এবাদত প্রথম একাদশে জায়গা পাননি।

এই সমন্বয় থেকে বোঝা যায়, মিরপুরের সম্ভাব্য স্পিন-সহায়ক কন্ডিশনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এটি যে সব ভেন্যুতে একইভাবে কার্যকর হবে, তা নয়। দ্বিতীয় টেস্ট সিলেটে হওয়ায় সেখানকার পিচ, আবহাওয়া এবং ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী বোলিং কম্বিনেশন বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে।

তিন স্পিনার রাখার সুবিধা হলো, দীর্ঘ সময় ধরে চাপ সৃষ্টি করা এবং ব্যাটারদের ভুল করতে বাধ্য করার সুযোগ বাড়ে। মেহেদী হাসান মিরাজ ব্যাট হাতেও অবদান রাখতে পারেন। অন্যদিকে, পেসারদের দায়িত্ব হবে নতুন বলে উইকেট নেওয়া, বিপরীত প্রান্ত থেকে চাপ তৈরি করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রিভার্স সুইং বা শর্ট বলের ব্যবহার করা।

তবে স্পিননির্ভর পরিকল্পনা সফল করতে হলে শুধু বোলার নির্বাচন যথেষ্ট নয়। ফিল্ডিংয়ের অবস্থান, বোলারদের নিয়ন্ত্রণ, সঠিক সময়ে আক্রমণাত্মক পরিবর্তন এবং প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের দুর্বলতা বুঝে বল করাও গুরুত্বপূর্ণ।

বাদ পড়া ক্রিকেটারদের নিয়ে বিতর্ক কোথায়?

আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট দলের অংশ থাকা সৌম্য সরকার ও খালেদ আহমেদ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে জায়গা পাননি। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করা নাহিদ রানাও দলে নেই।

সৌম্য সরকারের ক্ষেত্রে প্রশ্নটি হলো, তাঁকে আবার দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে নিয়মিত সুযোগ দেওয়া হবে কি না। তিনি সর্বশেষ ২০২১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট খেলেছিলেন। খালেদ আহমেদের ক্ষেত্রেও সাম্প্রতিক ম্যাচের সুযোগ ও ফিটনেস গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা।

তবে কাউকে বাদ দেওয়াকে সরাসরি অবিচার বলা যেমন ঠিক নয়, তেমনি অতীতের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কাউকে অনির্দিষ্টকাল দলে রাখাও যুক্তিযুক্ত নয়। নির্বাচকদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—কোনো ক্রিকেটারের সাম্প্রতিক ফর্ম, দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা, ফিটনেস ও দলের প্রয়োজনের মধ্যে ভারসাম্য রাখা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের পছন্দ-অপছন্দ আলোচনাকে প্রভাবিত করতে পারে। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তি হওয়া উচিত যাচাইযোগ্য পারফরম্যান্স, দলের কৌশল এবং নির্বাচনের ধারাবাহিকতা।

৩. খেলোয়াড়দের ফর্ম, ফিটনেস ও মানসিক চাপ

লিটনের ফিটনেস এবং মুশফিকের চোট

দলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের শারীরিক অবস্থা সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনের অন্যতম বড় বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। লিটন দাসের হিপের চোট তাঁকে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে ছিটকে দিয়েছিল। পরবর্তী মূল্যায়নের পর তিনি টেস্ট একাদশে ফিরেছেন।

অন্যদিকে, প্রথম টেস্টের আগের অনুশীলনে মুশফিকুর রহিমের হাতে চোট লাগায় তাঁকে একাদশের বাইরে রাখতে হয়েছে। অভিজ্ঞ এই ব্যাটারের অনুপস্থিতি মিডল অর্ডারের পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনেছে। তবে তাঁর চোটের প্রকৃত প্রভাব ও মাঠে ফেরার সময় নিয়ে চিকিৎসক বা বোর্ডের আনুষ্ঠানিক তথ্যের ওপর নির্ভর করাই যুক্তিযুক্ত।

তাসকিন আহমেদের প্রত্যাবর্তনও পেস আক্রমণের জন্য ইতিবাচক খবর। তবে তাঁর মতো দ্রুতগতির বোলারকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে ম্যাচের চাপ, ফিটনেস এবং ধারাবাহিকভাবে বল করার সক্ষমতা বিবেচনা করতে হয়।

মাঠের বাইরের আলোচনা কি পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে?

জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের প্রতিটি ইনিংস, দল নির্বাচন, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। ভালো পারফরম্যান্সের পর প্রশংসা যেমন আসে, তেমনি ব্যর্থতার পর সমালোচনাও তীব্র হতে পারে।

এই পরিবেশে একজন খেলোয়াড়ের মানসিক প্রস্তুতি, মনোযোগ ধরে রাখা এবং চাপ সামলানোর ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। তবে নির্দিষ্ট কোনো ক্রিকেটারের অফ-ফিল্ড জীবন তাঁর খারাপ পারফরম্যান্সের কারণ—এমন দাবি করার জন্য নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনুমান বা গুজবের বদলে মাঠের পারফরম্যান্স, সাক্ষাৎকার এবং আনুষ্ঠানিক তথ্যের ভিত্তিতে আলোচনা করাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অংশ।

বাংলাদেশ দলের জন্য তাই শুধু ভালো একাদশ নির্বাচন নয়, খেলোয়াড়দের জন্য স্থিতিশীল পরিবেশ, স্পষ্ট ভূমিকা এবং ধারাবাহিক সমর্থন নিশ্চিত করাও জরুরি।

৪. প্রতিপক্ষ বিশ্লেষণ ও সিরিজের গুরুত্ব

মিরপুরের পর সিলেট—দুই ভেন্যুতে দুই ধরনের চ্যালেঞ্জ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ ২৮ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত মিরপুরে। দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হওয়ার কথা ৫ নভেম্বর, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।

মিরপুরে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখাই এই সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য কৌশলগত সুবিধা। তবে দিনের শুরুতে নতুন বলের চ্যালেঞ্জ সামলে ব্যাটারদের উইকেটে টিকে থাকতে হবে।

অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস আক্রমণে জেডেন সিলস, শামার জোসেফ ও জেইডেন সিলসের মতো বোলারদের মোকাবিলা করতে বাংলাদেশের টপ অর্ডারকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রতিবেদনে একই খেলোয়াড়ের নাম পুনরাবৃত্তি এড়াতে বলা প্রয়োজন: ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসারদের মধ্যে কেমার রোচ, শামার জোসেফ ও জেডেন সিলস উল্লেখযোগ্য। নতুন বলের সুইং ও বাউন্স সামলাতে ফুটওয়ার্ক, শট নির্বাচন এবং অফ স্টাম্পের বাইরের বল ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সিলেটে দ্বিতীয় টেস্টের আগে প্রথম ম্যাচের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ থাকবে। সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্পিনারদের কার্যকারিতা, ব্যাটারদের উইকেটে থাকার ক্ষমতা এবং পেসারদের সাফল্য পরের ম্যাচের কৌশল নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সমীকরণ

এই সিরিজ শুধু দুই দলের জয়-পরাজয়ের লড়াই নয়; বাংলাদেশের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (WTC) অবস্থানের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশ পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ স্থানে ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছিল অষ্টম স্থানে।

বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য হলো, বাকি ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিক ফল অর্জন করে ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখা। এ জন্য প্রতিটি টেস্টে জয় গুরুত্বপূর্ণ। একটি সিরিজে ভালো ফল পরবর্তী কঠিন সফরের আগে আত্মবিশ্বাসও বাড়াতে পারে।

তবে পয়েন্ট তালিকায় অবস্থান বদলানো নির্ভর করবে শুধু বাংলাদেশের ফলের ওপর নয়; প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর ম্যাচের ফল এবং সংশ্লিষ্ট WTC চক্রের পয়েন্ট-শতাংশের হিসাবও বিবেচনায় আসে। তাই সিরিজকে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ বলা যায়, কিন্তু ফাইনালে ওঠা নিশ্চিত—এমন দাবি করা যায় না।

৫. সমর্থকদের প্রত্যাশা ও নির্বাচনী বিতর্ক

সমর্থকেরা কী দেখতে চান?

বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রত্যাশা সাধারণত তিনটি জায়গায় কেন্দ্রীভূত—যোগ্যতার ভিত্তিতে দল নির্বাচন, তরুণদের নিয়মিত সুযোগ এবং অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের কাছ থেকে দায়িত্বশীল পারফরম্যান্স।

সাম্প্রতিক ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের কাছে হেরে ফাইনালে উঠতে পারেনি। ফলে টেস্ট ক্রিকেটে ঘুরে দাঁড়ানো দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে ওয়ানডের ব্যর্থতা দিয়ে টেস্ট দলের সম্ভাবনা পুরোপুরি বিচার করা ঠিক হবে না; দুই সংস্করণের কৌশল ও খেলোয়াড়দের ভূমিকা আলাদা।

সমর্থকদের আরেকটি প্রত্যাশা হলো, নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত যেন স্বচ্ছ ও ধারাবাহিক হয়। একজন ক্রিকেটারকে দলে নেওয়া হলে তাঁর কাছ থেকে কী ভূমিকা আশা করা হচ্ছে, আর বাদ পড়লে কোন পারফরম্যান্স বা কৌশলগত কারণে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা থাকলে বিতর্কের জায়গা কমতে পারে।

নতুন পরিকল্পনা কি জয়ের ধারায় ফেরাবে বাংলাদেশকে?

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা, স্পিন আক্রমণের কার্যকারিতা এবং চাপের মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া। লিটনের প্রত্যাবর্তন, তাসকিনের স্কোয়াডে থাকা এবং নাঈম হাসানের ওপর আস্থা—প্রতিটি সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা শেষ পর্যন্ত মাঠের ফলেই প্রমাণিত হবে।

মুশফিকের অনুপস্থিতিতে মিডল অর্ডার কতটা দায়িত্ব নিতে পারে, তিন স্পিনারের পরিকল্পনা কতটা সফল হয় এবং তরুণরা বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করতে পারে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে দুই টেস্টের পারফরম্যান্সে।

আপনার কী মনে হয়—বাংলাদেশের টেস্ট দলে আরও তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়া উচিত, নাকি অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপরই বেশি আস্থা রাখা প্রয়োজন? ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই দল কি প্রত্যাশিত সাফল্য এনে দিতে পারবে? মন্তব্যে আপনার মতামত জানান।

তথ্যসূত্র:
১. International Cricket Council (ICC) — ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের জন্য বাংলাদেশের স্কোয়াড ও WTC প্রেক্ষাপট।
২. The Daily Star — তাসকিনের প্রত্যাবর্তন, লিটনের ফিটনেস এবং প্রথম টেস্টের স্কোয়াড।
৩. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (BSS) — প্রথম টেস্টের একাদশ, মুশফিকুর রহিমের অনুপস্থিতি ও WTC পরিস্থিতি।
৪. Dhaka Tribune — টস, লিটনের প্রত্যাবর্তন এবং প্রথম টেস্টের একাদশ।

বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান টেস্ট: জয়ের মঞ্চ তৈরি, তবু শেষ হাসি নয় বাংলাদেশের!

মেন্ডিস শ্রীলঙ্কার নতুন অধিনায়ক

বাংলাদেশের বিপক্ষে কি খেলবেন স্টোকস?

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে ধোঁয়াশা

ব্রোঞ্জ জিতল বাংলাদেশের মেয়েরা

টাইগার পেস ইউনিট নিয়ে আশাবাদী কোচ অ্যালান ডোনাল্ড

আরও BUZZ

চাঁদের বুকের নিচে বিশাল গুহা! ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার রহস্য ও ভবিষ্যৎ মানব বসতির নতুন সম্ভাবনা

সারা দিন কাজের পর ক্লান্ত লাগে? এনার্জি ফিরে পেতে মেনে চলুন ৫টি সহজ অভ্যাস

POCO X8s-এর শক্তিশালী পারফরম্যান্স ও Redmi Pad-এর আধুনিক ফিচার—জেনে নিন স্পেসিফিকেশন ও বাংলাদেশে দাম।

শীতের শুরুতেই ঘুরে আসুন বাংলাদেশের সেরা ১০ পর্যটন গন্তব্যে: সাশ্রয়ী ট্যুর প্ল্যান ও সম্পূর্ণ ভ্রমণ গাইড

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ঘিরে উদ্বেগ: বাংলাদেশের ঝুঁকি কতটা, কী বলছে আবহাওয়ার পূর্বাভাস?