খুব বেশিদিন না রাজকুমার হিরানী আর শাহরুখ তাদের নতুন মুভির এনাউন্সমেন্ট করেছিলেন যার নাম "ডানকি"।
তবে এই ডানকি মানে কি? এটার মানে " গাধা" নাকি অন্য কিছু। এই পুরা কাহিনী একজন মানুষ যা চিন্তা করে তার চেয়েও ভয়াবহ। ডানকি নামটা যতোটা মজার মনে হয় তার পেছনের কাহিনী অনেক বেশি ভয়ংকর।
সহজ ভাষায় ডানকি মানে হলো, অবৈধ পথে বিদেশে ঢোকা।সাধারণ ভাবে বিদেশে যেতে হলে পাসপোর্টের আবেদন করতে হয়,ভিসা পেতে হয়, সাথে আরো অনেক কিছু থাকে যা সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া।
তবে এসব নিয়ম কানুন না মেনে, সরকারকে না জানিয়ে, সবার চোখ এড়িয়ে এক দেশ থেকে অন্যদেশের সীমানায় প্রবেশকে বলা হয় "ডানকি ফ্লাইট"।
ভারতে ও বাংলাদেশে সহ বিভিন্ন দেশের মানুষ এভাবেই মানুষ " ডানকি ফ্লাইট" এর মাধ্যমে পাড়ি দিচ্ছেন বিভিন্ন দেশে।বিভিন্ন এজেন্ট এর মাধ্যমেই তারা এটি করে থাকে এবং সে এজেন্টগুলাও ইল্লিগাল।
বিশেষ করে সমাজের নিম্নস্তরের মানুষ,যারা মনে করেন কোনোভাবে বিদেশে গেলেই তাদের পরিবারের আর্থিক উন্নয়ন হবে, ভাগ্য পাল্টাবে তারাই মূলত এই ডানকি ফ্লাইটের যাত্রী হোন।
কিন্তু এই ডানকি ফ্লাইটের আসল রূপ অনেক ভয়ংকর।মূলত এজেন্ট রা তাদের বলে আপনারা ডিরেক্ট আমেরিকা ল্যান্ড করবেন কিন্তু তারা আসলে ল্যান্ড করেন লাতিন আমেরিকার কোনো দেশে। সেখান থেকে প্রায় হাজারো মাইল পথ হাঁটতে হয়,পাড়ি দিতে হয় বড় বড় জংগল,মরুভূমি, নদী। তাদের সম্মুখীন হতে হয় জন্তু-জানোয়ার থেকে শুরু করে সন্ত্রাসী। খাবার, পানি অথবা থাকার জায়গা যার কোনটিই থাকে । রাস্তার পাশে পাওয়া যায় অনেক এর মৃতদেহ।সেই মৃতদেহ গুলাই একসময় ডানকি ফ্লাইটের মাধ্যমে বিদেশ যেতে চেয়েছিল।
গুগল সার্চ করলে অসংখ রিপোর্ট পাবেন যা আপনাদের বুঝতে সাহায্য করবে ডানকি ফ্লাইটের ভয়াবহতা বুঝতে। অন্য দেশে যাওয়ার জন্য যারা এই পথ বেছে নেয় তাদের মাঝে অধিকাংশ মানুষ শেষ পর্যন্ত গন্তব্যে পৌছাতে পারে না.
১৬০ জনের একটা দল যাত্রা শুরু করে যার মাঝে মাত্র ৮ জন শেষ পর্যন্ত পৌছাতে পেরেছিল। যারা বেছে ছিল, তারা বাকী জীবন এই ভয়াবহ সৃতি নিয়ে ছিল। মাঝে মাঝে পানির অভাবে নিজের ঘাম পান করতে হইসিলো ভুক্তভোগীদের।
২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় অনবরত হাঁটে, কাদামাটিতে মাখামাখি হয়ে রাত্রি যাপন, পর্যাপ্ত খাবার ও পানি অভাব, সাথে রয়েছে ছিনতাইকারীদের হাতে পরার ভয়,পুলিশের রেইড,অকথ্য নির্যাতন সহ অনেক রকম বর্ণনাতীত কষ্ট।
দেশে ফিরে যাবে? সেটাও হবার না। ফিরবেন কিভাবে ? আপনি কোথায় আছেন তার সম্পর্কে আপনার কোনো ধারনাই । জমি বিক্রি করে অথবা জমিজিরাত বন্ধক রেখে,বাবা-মার হাসি ফুটানোর জন্যই তো করছে এসব।থেমে গেলে চলবে না! বোনের বিয়ে দিতে হবে,বাবার চিকিৎসার টাকা যে দিতে হবে,বিদেশে গিয়ে টাকা জমা না দিতে পারলে প্রিয়াতমার বিয়ে দিয়ে দিবে যে!
ভাগ্য এর "নো ম্যানস ল্যান্ডে আটকে থেকে যান,চেষ্টা করেন সীমান্ত পার হবার।
অনেকে ফিরতে পারেন।অনেকে পারেন না।অনেকের দেশে আসা হয়না।মেক্সিকোর কোনো এক জংগলে তার মাংস খেতে থাকে শকুনরা।
আপনার পরিবার মনে করে, ছেলে আমেরিকা গিয়ে বাবা-মা কে ভুলে গেছে, কাছের মানুষ ভাবে টাকা কামিয়ে তাকে ভুলে গেছে। কিন্তু তাদের ধারণা ও থাকে না যে, সেই মানুষের আর কোনো অস্তিত্ব নেই কোথাও। স্বপ্ন সাজাতে গিয়ে সেই মানুষটা চলে যে গেছে ওপারে।
ডানকি ফ্লাইট নিয়ে হাজারো কাহিনী আছে,আছে হাজারো মানুষের বলা কথা।সবকিছু লিখা সম্ভব না।তবে প্রতিবছর এরকমই মানুষরা শিকার হচ্ছে এই ভয়ানক প্রতারণার।
এখন দেখা যাক রাজু-হিরানী কিভাবে এই মুভিটাকে বড় পর্দায় আনবেন।যদি উনি সঠিক ভাবে এই মুভিকে আনেন তাইলে আমার বিশ্বাস এই মুভি ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে পরিবর্তন এনে দিবে।