নতুন নিয়মের সম্ভাবনা, ভ্রমণ খরচ ও সেন্ট মার্টিন যাওয়ার জরুরি টিপস।

সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে নতুন নিয়ম আসছে? পর্যটন মৌসুম শুরুর আগে যা জানা যাচ্ছে

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৫৬

নীল জলরাশি, প্রবালসমৃদ্ধ সমুদ্র, নারকেলগাছের সারি আর দিগন্তজোড়া বালুকাবেলা—বাংলাদেশের দক্ষিণ প্রান্তের সেন্ট মার্টিন দ্বীপ যেন প্রকৃতির এক অনন্য উপহার। শীতের শুরুতে এই দ্বীপে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন হাজারো পর্যটক। কিন্তু পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে পর্যটন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা চালু হওয়ায় এবারের মৌসুমে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের আগে বেশ কিছু বিষয় জেনে রাখা জরুরি।

২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় দ্বীপে পর্যটন পরিচালনার সময়সীমা, দৈনিক পর্যটকসংখ্যা এবং পর্যটকবাহী জাহাজ ছাড়ার স্থান পুনর্বিবেচনার কথা জানানো হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সরকারের পর্যালোচনায় পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য, পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং যাতায়াত ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। 

ফলে এবারের সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে যাওয়ার আগে শুধু টিকিট কাটলেই হবে না; ভ্রমণের সময়সীমা, রাতযাপনের অনুমতি, জাহাজ চলাচল এবং ট্রাভেল পাসের নিয়মও যাচাই করতে হবে।

সেন্ট মার্টিনে নতুন নিয়ম আসছে কেন?

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ হিসেবে সেন্ট মার্টিনের পরিবেশগত গুরুত্ব অনেক। এখানকার সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, প্রবাল, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি এবং উপকূলীয় উদ্ভিদ দ্বীপটির প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কিন্তু পর্যটকের চাপ বাড়লে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সুপেয় পানির সরবরাহ, জ্বালানি ব্যবহার এবং সামুদ্রিক পরিবেশের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের প্যাকেট ও অন্যান্য বর্জ্যও দ্বীপটির পরিবেশের জন্য উদ্বেগের কারণ।

এই পরিস্থিতিতে সরকার পর্যটকের সংখ্যা ও ভ্রমণের সময়সীমা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরিবেশের ওপর চাপ কমানোর চেষ্টা করছে।

১২ অক্টোবরের সভায় বিশেষভাবে আলোচনায় আসে তিনটি বিষয়:

  • পর্যটন মৌসুমের সময়সীমা পুনর্বিবেচনা।

  • প্রতিদিন কতজন পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন, তা পর্যালোচনা।

  • পর্যটকবাহী জাহাজ ছাড়ার স্থান পুনর্বিবেচনা।

তবে এসব প্রস্তাবের কোনটি কার্যকর হবে, তা চূড়ান্ত সরকারি ঘোষণা ছাড়া নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। 

২০২৬–২৭ মৌসুমে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের নিয়ম কী?

২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, আগের পর্যটন ব্যবস্থায় নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির জন্য আলাদা বিধান ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এই নিয়মগুলোকে পূর্ববর্তী নির্দেশনা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

নভেম্বর: পর্যটকেরা দিনে দ্বীপ ভ্রমণ করতে পারবেন, তবে রাতযাপনের অনুমতি নেই। একই দিনে ফিরে আসতে হবে।

ডিসেম্বর ও জানুয়ারি: আগের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই দুই মাসে দ্বীপে রাতযাপনের অনুমতি রয়েছে।

ফেব্রুয়ারি: পর্যটকদের জন্য দ্বীপে যাতায়াত বন্ধ রাখার বিধান ছিল।

দৈনিক পর্যটকসংখ্যা: আগের নিয়মে গড়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ হাজার পর্যটকের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

টিকিট ও ট্রাভেল পাস: বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ও অনুমোদিত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। টিকিটে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড থাকার বিধান রয়েছে। 

মনে রাখতে হবে, ২০২৬–২৭ মৌসুমের জন্য এসব বিধানের পরিবর্তন এখনো পর্যালোচনাধীন। তাই পুরোনো নিয়মের ভিত্তিতে ভ্রমণের তারিখ নির্ধারণ না করে যাত্রার আগে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা যাচাই করুন।

সেন্ট মার্টিন যেতে হলে কীভাবে পরিকল্পনা করবেন?

সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো যাতায়াতের ব্যবস্থা। দ্বীপে যাওয়ার জন্য পর্যটকবাহী জাহাজের অনুমোদিত রুট ও ছাড়ার স্থান অনুসরণ করতে হয়। আগের মৌসুমে কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়া ঘাট থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। তবে ২০২৬–২৭ মৌসুমে জাহাজ ছাড়ার স্থান পুনর্বিবেচনার বিষয়টি আলোচনায় থাকায় নতুন সময়সূচি ও ঘাট নিশ্চিত করে নেওয়া জরুরি। 

ভ্রমণের প্রস্তুতি নিতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে পারেন।

প্রথম ধাপ: ভ্রমণের তারিখ নির্ধারণ করুন। আপনি দিনে গিয়ে ফিরে আসতে চান, নাকি দ্বীপে রাত কাটাতে চান—সেটি আগে ঠিক করুন। রাতযাপনের অনুমতি না থাকলে শুধু হোটেল বুকিং করে কোনো লাভ হবে না।

দ্বিতীয় ধাপ: অনুমোদিত টিকিট সংগ্রহ করুন। সরকারি নির্দেশনায় স্বীকৃত অনলাইন পোর্টাল ও অনুমোদিত জাহাজ পরিচালনাকারীর মাধ্যমে টিকিট কাটুন। টিকিটের সঙ্গে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড আছে কি না, তা যাচাই করুন।

তৃতীয় ধাপ: জাহাজের সময়সূচি নিশ্চিত করুন। যাত্রার আগের দিনও ছাড়ার ঘাট, রিপোর্টিংয়ের সময়, ফেরার সময় এবং আবহাওয়াজনিত পরিবর্তন সম্পর্কে খোঁজ নিন।

চতুর্থ ধাপ: থাকার ব্যবস্থা যাচাই করুন। রাতযাপনের অনুমতি থাকলে আগে থেকে আবাসন বুকিং করতে পারেন। বুকিংয়ের শর্ত, বাতিলের নীতি এবং বিদ্যুৎ-পানির সুবিধা সম্পর্কে জেনে নিন।

পঞ্চম ধাপ: জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখুন। ফোন চার্জ দিয়ে রাখুন, প্রয়োজনীয় নম্বর সংরক্ষণ করুন এবং ভ্রমণসঙ্গীদের সঙ্গে যোগাযোগের পরিকল্পনা ঠিক করে নিন।

সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে আনুমানিক কত খরচ হতে পারে?

সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের বাজেট নির্ভর করে যাতায়াতের মাধ্যম, আবাসন, খাবার, ভ্রমণের সময় এবং ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর। তাই নির্দিষ্ট অঙ্ককে নিশ্চিত খরচ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

ভ্রমণের বাজেট তৈরি করতে নিচের খাতগুলো বিবেচনায় রাখুন:

খরচের খাত কী কী বিবেচনা করবেন
ঢাকা–কক্সবাজার যাতায়াত বাস বা অন্য পরিবহনের ভাড়া
কক্সবাজারে স্থানীয় যাতায়াত  ঘাটে পৌঁছানোর পরিবহন
জাহাজের টিকিট যাতায়াতের টিকিট ও প্রযোজ্য ফি
আবাসন হোটেল, রিসোর্ট বা অনুমোদিত থাকার ব্যবস্থা
খাবার ও পানীয় দৈনিক খাবার ও নিরাপদ পানির খরচ
অন্যান্য জরুরি খরচ, প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও স্থানীয় যাতায়াত

বাজেট কমানোর টিপস: আগে থেকে যাতায়াতের টিকিট ও আবাসনের খরচ তুলনা করুন, ভ্রমণসঙ্গীদের সঙ্গে অনুমোদিত আবাসনের খরচ ভাগ করে নিন এবং অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা এড়িয়ে চলুন। তবে সরকারি অনুমোদন, নিরাপত্তা বা পরিবেশগত বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে খরচ কমানোর চেষ্টা করবেন না।

টিকিট, জাহাজ ও আবাসনের বর্তমান মূল্য যাচাই না করে কোনো নির্দিষ্ট মোট খরচ ধরে বুকিং করবেন না।

সেন্ট মার্টিনে কোথায় ঘুরবেন?

সেন্ট মার্টিনের আকর্ষণ শুধু নীল সমুদ্র নয়; দ্বীপটির শান্ত পরিবেশ, উপকূলীয় প্রকৃতি ও স্থানীয় জীবনযাত্রাও পর্যটকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

১. পশ্চিম ও পূর্ব উপকূলের সৈকত

দ্বীপের বিভিন্ন অংশে সমুদ্রের রং, ঢেউ ও উপকূলের দৃশ্য ভিন্নভাবে উপভোগ করা যায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সৈকতে হাঁটা, সূর্যাস্ত দেখা এবং ছবি তোলার অভিজ্ঞতা ভ্রমণকে আরও সুন্দর করে তুলতে পারে। তবে ঢেউ, জোয়ার ও স্থানীয় নিরাপত্তা নির্দেশনা অবশ্যই মেনে চলুন।

২. স্থানীয় জনপদ ও বাজার

দ্বীপের স্থানীয় জনজীবন, ছোট দোকান এবং সামুদ্রিক অঞ্চলের জীবনধারা সম্পর্কে জানার জন্য জনবসতিপূর্ণ এলাকা ঘুরে দেখতে পারেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন এবং তাঁদের ব্যক্তিগত পরিসরের প্রতি সম্মান দেখান।

৩. প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য

সেন্ট মার্টিনের পরিবেশই এর সবচেয়ে বড় সম্পদ। উপকূলীয় উদ্ভিদ, সামুদ্রিক পাখি ও প্রাকৃতিক দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। তবে প্রবাল, শামুক-ঝিনুক বা সামুদ্রিক প্রাণী সংগ্রহ করবেন না এবং সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা থাকলে তা মেনে চলুন।

বিশেষ সতর্কতা: ছেঁড়াদ্বীপ বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট স্থানে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে সেই সময়ের অনুমোদন, যাতায়াতের সুযোগ ও স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি আগে যাচাই করুন। সব পর্যটনস্থানে সব সময় প্রবেশের অনুমতি থাকবে—এমন ধারণা করা ঠিক নয়।

সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের ১২টি কার্যকর টিপস

১. টিকিট কাটার আগে সরকারি ঘোষণা দেখুন

এই মৌসুমে ভ্রমণের সময়সীমা, পর্যটকসংখ্যা এবং জাহাজের ঘাট পরিবর্তিত হতে পারে। তাই পুরোনো ব্লগ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের ওপর নির্ভর না করে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা যাচাই করুন।

২. নভেম্বরের ভ্রমণ পরিকল্পনায় সতর্ক থাকুন

আগের নিয়মে নভেম্বরে রাতযাপনের অনুমতি ছিল না। নতুন নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত নভেম্বরের জন্য রাত কাটানোর পরিকল্পনা নিশ্চিত ধরে নেওয়া উচিত নয়।

৩. জাহাজে ওঠার আগে সময় হাতে রাখুন

নির্ধারিত সময়ের আগেই ঘাটে পৌঁছান। টিকিট, কিউআর কোড ও প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুত রাখুন। জাহাজের রিপোর্টিংয়ের সময় সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাছ থেকে জেনে নিন।

৪. সমুদ্রযাত্রার জন্য প্রস্তুত থাকুন

সমুদ্রের ঢেউ ও আবহাওয়ার কারণে যাত্রা অস্বস্তিকর হতে পারে। আরামদায়ক পোশাক পরুন, পর্যাপ্ত পানি সঙ্গে রাখুন এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী সাধারণ ভ্রমণসামগ্রী প্রস্তুত করুন। যাত্রায় অসুস্থ বোধ করলে জাহাজের কর্মীদের জানান।

৫. হালকা ব্যাগ নিন

প্রয়োজনীয় পোশাক, সানস্ক্রিন, টুপি, সানগ্লাস, ব্যক্তিগত ওষুধ এবং চার্জার সঙ্গে রাখতে পারেন। অপ্রয়োজনীয় ভারী জিনিস বহন করলে ঘাট ও দ্বীপে চলাচল কঠিন হতে পারে।

৬. পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল নিন

নিজের পানির ফ্লাস্ক ব্যবহার করলে প্লাস্টিক বর্জ্য কমে। নিরাপদ পানীয় জল সঙ্গে রাখুন এবং পানির উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত না হলে তা পান করবেন না।

৭. আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখুন

সমুদ্র উত্তাল থাকলে বা আবহাওয়া খারাপ হলে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হতে পারে। যাত্রার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা যাচাই করুন। নিরাপত্তার স্বার্থে যাত্রা বাতিল হলে ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না।

৮. রাতযাপনের অনুমতি নিশ্চিত করুন

হোটেল বুকিং থাকলেই দ্বীপে রাত কাটানোর অনুমতি নিশ্চিত হয় না। আপনার ভ্রমণের তারিখে রাতযাপন বৈধ কি না, তা আগে যাচাই করুন।

৯. সৈকতে প্লাস্টিক ফেলবেন না

খাবারের প্যাকেট, বোতল, টিস্যু বা অন্য বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলুন। বর্জ্য রাখার ব্যবস্থা না থাকলে সঙ্গে বহন করে অনুমোদিত স্থানে ফেলুন।

১০. রাতে শব্দ ও আলো কম রাখুন

সৈকতে উচ্চ শব্দ, রাতের আলো এবং বারবিকিউ পার্টির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এসব নিয়ম মানলে সামুদ্রিক প্রাণী ও দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য হবে।

১১. স্থানীয়দের প্রতি সম্মান দেখান

স্থানীয় বাসিন্দাদের ছবি বা ভিডিও ধারণের আগে অনুমতি নিন। দোকান থেকে পণ্য কেনার সময় মূল্য জেনে নিন এবং পরিবেশ বা জনজীবনের ক্ষতি হয় এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকুন।

১২. ফেরার পরিকল্পনা আগে থেকেই রাখুন

ফেরার টিকিট, জাহাজের সময়সূচি ও ঘাটে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন। শেষ মুহূর্তের ওপর নির্ভর না করে যাত্রার দিন পর্যাপ্ত সময় হাতে রাখুন।

সেন্ট মার্টিনে কোন কাজগুলো করা যাবে না?

পরিবেশ সংরক্ষণসংক্রান্ত নির্দেশনা অনুযায়ী, দ্বীপে কিছু কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ বা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

  • নিষিদ্ধ পলিথিন বহন করা যাবে না।

  • একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার এড়াতে হবে।

  • সৈকতে রাতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি বা বারবিকিউ পার্টি করা নিষিদ্ধ।

  • কেয়াবনে প্রবেশ এবং কেয়া ফল সংগ্রহ বা বেচাকেনা করা যাবে না।

  • প্রবাল, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, রাজকাঁকড়া ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর ক্ষতি করা যাবে না।

  • সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইক বা অন্যান্য মোটরচালিত যানবাহন চালানো নিষিদ্ধ।

এসব বিধিনিষেধের উদ্দেশ্য হলো দ্বীপটির জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা। 

পর্যটন নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় বাসিন্দাদের কী প্রভাব পড়তে পারে?

সেন্ট মার্টিনের পর্যটন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনায় পরিবেশের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। দ্বীপের অনেক বাসিন্দার জীবিকা পর্যটন, হোটেল-রিসোর্ট, খাবারের দোকান, পরিবহন ও অন্যান্য সেবার সঙ্গে যুক্ত।

পর্যটন মৌসুম সীমিত হলে তাঁদের আয় ও কর্মসংস্থানে প্রভাব পড়তে পারে। আবার অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনের কারণে দ্বীপের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে দীর্ঘমেয়াদে পর্যটননির্ভর অর্থনীতিও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

এ কারণে পর্যটনের এমন একটি ব্যবস্থা প্রয়োজন, যেখানে পরিবেশ সংরক্ষণ, স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবিকা এবং পর্যটকদের অভিজ্ঞতা—তিনটি বিষয়ই গুরুত্ব পায়। পরিকল্পিত পর্যটন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব সেবা উন্নয়নের মাধ্যমে দ্বীপের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব।

তাহলে কবে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে যাবেন?

যাঁরা ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নতুন সরকারি সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা।

আগের নিয়মে নভেম্বর ছিল শুধু দিনের ভ্রমণের জন্য, আর ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাতযাপনের সুযোগ ছিল। তবে সরকার এবার পর্যটনের সময়সীমা, দৈনিক পর্যটকসংখ্যা ও জাহাজের ছাড়ার স্থান পুনর্বিবেচনা করছে। ফলে ভ্রমণের তারিখ চূড়ান্ত করার আগে নতুন নির্দেশনা জেনে নেওয়া জরুরি।

বিশেষ করে যাঁরা পরিবার নিয়ে বা দূর থেকে কক্সবাজারে যাবেন, তাঁদের উচিত জাহাজের টিকিট, আবাসন এবং ফেরার ব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পরই চূড়ান্ত পরিকল্পনা করা।

শেষ কথা

সেন্ট মার্টিন শুধু একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়; এটি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। দ্বীপটির সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ ধরে রাখতে হলে পর্যটন পরিচালনায় দায়িত্বশীলতা এবং পরিবেশ সংরক্ষণকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

২০২৬–২৭ পর্যটন মৌসুমের আগে সরকারের নতুন পর্যালোচনা ভ্রমণব্যবস্থায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে নতুন নিয়ম এখনো চূড়ান্ত নয়। তাই গুজবের বদলে সরকারি ঘোষণা অনুসরণ করুন, বৈধ টিকিট ও ট্রাভেল পাস সংগ্রহ করুন এবং দ্বীপে গিয়ে পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করুন।

পরিকল্পিত ভ্রমণই পারে সেন্ট মার্টিনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আগামী প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করতে।

দুর্গাপূজার ছুটিতে ঘুরে আসুন বাংলাদেশের সেরা ৭ গন্তব্যে, কম খরচে জমবে আনন্দ

কাঞ্চনজঙ্ঘার টানে তেঁতুলিয়ায় পর্যটকের ঢল, মুগ্ধ উত্তরের আকাশ

মনভোলানো ভোলা

ভ্রমণ তালিকায় ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জ

ভ্রমণে বর্ষা উপভোগ (পর্ব-১)

ভ্রমণে ছন্দ আসুক ভালবাসার স্বাক্ষরে!

আরও BUZZ

আইফোনকে টেক্কা দিতে প্রস্তুত ওপ্পো? ColorOS 17 নিয়ে তোলপাড় টেক দুনিয়ায়!

দুর্গাপূজার ছুটিতে ঘুরে আসুন বাংলাদেশের সেরা ৭ গন্তব্যে, কম খরচে জমবে আনন্দ

Nothing OS 5.0 আসছে ১০ ফোনে, তালিকায় যেসব মডেল

চ্যাম্পিয়নস লিগে অঘটনের রাত! বায়ার্নের পয়েন্ট হারানো, বার্সার প্রত্যাবর্তন—আজ সিটি-পিএসজি মহারণ, রোমার মাঠে রিয়াল মাদ্রিদের পরীক্ষা

কাঞ্চনজঙ্ঘার টানে তেঁতুলিয়ায় পর্যটকের ঢল, মুগ্ধ উত্তরের আকাশ