চোটের কারণে কোপা আমেরিকায় খেলতে পারছেন না, তবে ব্রাজিল দলকে সমর্থন দিতে আজ ম্যাচের আগে ব্রাজিলের ড্রেসিংরুমে গেছেন নেইমার, খেলা দেখেছেন স্টেডিয়ামে বসে। কিন্তু যা দেখেছেন, তাতে হতাশ নেইমার। কিছুক্ষণ পরপর ব্রাজিল কোনো সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়, বা আক্রমণের শেষ মুহূর্তে গুবলেট পাকিয়ে ফেলে, গ্যালারিতে হাত-পা ছুঁড়ে অসহায়ত্ব প্রকাশ করতে দেখা যায় নেইমারকে।
কোপা আমেরিকায় আজ নিজেদের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিল হাড়ে হাড়ে টের পেল, গ্যালারির বদলে মাঠেই নেইমারকে দ্রুত দরকার তাদের! নেইমারকে ছাড়া ব্রাজিলের আক্রমণ যে একেবারেই ভোঁতা! প্রতিপক্ষের ডি বক্সের সামনে গিয়ে কী করতে হবে, সেটিই যেন বুঝে উঠতে পারেন না ভিনিসিয়ুস-রদ্রিগোরা।
কোস্টারিকার বিপক্ষেও আজ তা-ই দেখা গেল। শেষ পর্যন্ত ০-০ ড্র করে মাঠ ছেড়েছে ব্রাজিল। গ্রুপের সমীকরণেও বেশ ঝামেলায় পড়ে গেল বুঝি ব্রাজিল! গ্রুপের তিন প্রতিপক্ষের মধ্যে কোস্টারিকাকেই ব্রাজিলের সবচেয়ে সহজ প্রতিপক্ষ ভাবা হচ্ছিল। সেই কোস্টারিকার বিপক্ষেই গোল করতে না পারা ব্রাজিল পরের দুই ম্যাচে কলম্বিয়া বা প্যারাগুয়ের বিপক্ষে কী করতে পারবে, তা-ই দেখার। গ্রুপের অন্য ম্যাচে আজ প্যারাগুয়েকে ২-১ গোলে হারিয়েছে কলম্বিয়া।
২০১৪ বিশ্বকাপে ইতালি-ইংল্যান্ডের মতো দলকে টপকে চমক দেখানো কোস্টারিকা আর তেমন ভয়ংকর দল নয়। কেইলর নাভাস, ব্রায়ান রুইসদের সেই কোস্টারিকা এখন অতীত। তবে তাদের অতি-রক্ষণাত্মক কৌশল প্রতিপক্ষকে ভোগাতে পারে একইভাবে। আজ ব্রাজিল তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে।
পরিসংখ্যান বলবে, ব্রাজিল দারুণ দাপুটে ফুটবল খেলেছে। পুরো ম্যাচে কোস্টারিকার ২৪৮ পাসের বিপরীতে ব্রাজিলের পাস ৬৯৫টি, বলের দখল ব্রাজিলের কাছে ছিল ম্যাচের ৭৪ শতাংশ সময়ে। কোস্টারিকা যেখানে মাত্র দুটি শট নিতে পেরেছে, ব্রাজিল শট নিয়েছে ১৯টি।
কিন্তু ব্রাজিলের ঝামেলাটা হলো, এই ১৯ শটের মাত্র ৩টি ছিল কোস্টারিকার গোলপোস্টমুখী! পোস্টের দিকেই শট না গেলে আর গোল হবে কীভাবে!
অবশ্য ম্যাচের বয়স যখন আধাঘণ্টা, তখন ব্রাজিলের একটা গোল বাতিল হয়েছে অফসাইডের কারণে। ফ্রি-কিক থেকে রাফিনিয়ার ক্রস রদ্রিগোর কাঁধে লেগে মারকিনিওসের কাছে যায়, তিনি বলটা জালে ঠেলে দেন। কিন্তু প্রায় তিন মিনিটের রিভিউ শেষে ভিএআর জানাল, মারকিনিওসের বুটের ডগা অফসাইড ছিল!
এর বাইরে ব্রাজিলের গোলের কাছে যাওয়া বলতে, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে পাকেতার একটা শট পোস্টে লেগে ফিরেছে। এর কিছুক্ষণ পর, ৬৩ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে লেফটব্যাক গিলের্মে আরানিয়ার শট ফিরিয়ে দেন কোস্টারিকান গোলকিপার পাত্রিক সিকেরা।
নেইমারের বদলে যে দুজনের দিকে ব্রাজিল তাকিয়ে ছিল, সেই রদ্রিগো ও ভিনিসিয়ুস আজ হতাশ করেছেন। ভিনিসিয়ুসকে তো মাঠে খুঁজেই পাওয়া যায়নি, ঘণ্টাখানেক পেরোনোর পর তাঁকে তুলে নেন ব্রাজিল কোচ।
