আনুষ্ঠানিকতার যে না থাকার মত সম্পর্ক ছিল সেটাও নষ্ট হয়ে গেল শরিফুল রাজ ও পরীমণির মাঝে। রাজকে ডিভোর্সের নোটিশ পাঠিয়েছেন পরী। ২০ সেপ্টেম্বর খবরটি আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেও রাজ খবরটা শুনে অনেকটা ‘আকাশ থেকে পড়ার’ ভান করেন। যদিও পরিমনি বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।
অবশেষে রাতে পরী নিজেই স্পষ্ট ভাষায় ডিভোর্সের ঘোষণা দিলেন। লম্বা বার্তায় পরিমনি জানালেন, রাজের বিরুদ্ধে ‘ব্ল্যাকমেইল’র মতো গুরুতর অভিযোগও।
সোশ্যাল হ্যান্ডেলে পুরনো একটি স্ট্যাটাসের স্ক্রিনশট পোস্ট করেছেন পরী। যেখানে রাজের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতির বিভিন্ন দিক উল্লেখ করেছিলেন। সেটার সূত্র ধরেই নিজের বর্তমান বক্তব্য পেশ করলেন পরীমণি।
নায়িকার ভাষ্য, “সরি বলা, না খেয়ে থাকা, পা ধরে- ‘মাফ করে দাও আর হবে হবে না’, এমনকি সুইসাইডের মতো হুমকিতেও ব্ল্যাকমেইলের শিকার হতে হয়েছে আমাকে! একই রকম ভুলের ক্ষমা কতবার করা যায়, আমি জানি না। আমি শুধু সব ভুলে সুন্দর স্বাভাবিক একটা পারিবারিক সম্পর্ক চেয়েছিলাম। কিন্তু সে কখনোই এই সম্পর্কটাকে ওউন করেনি। সবার সামনে আমার বউ, আমার বাচ্চা করে বেড়ানো ভয়ংকর মানুষ একজন। যে কিনা এই সম্পর্কটাকে শুধু নিজের স্বার্থে ইউজই করে গেলো প্রতিনিয়ত!”
অনুসারীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে পরী বলেছেন, ‘আমি এমন ভয়ংকর একজন মানুষকে বার বার সুযোগ দিয়েছি। সে-ও সুযোগ পেতো কারণ আইনগতভাবে তার সাথে আমার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়নি। এসবে বারবার আমি অসম্মানিত হয়েছি আপনাদের কাছেও। আমাকে ক্ষমা করবেন। আমি তাকে অফিসিয়ালি ডিভোর্স দিয়েছি। খুবই স্বাভাবিক ওয়েতে। এটাও তাকে আমার এক প্রকার ক্ষমা করে দেয়া। না হয় আমার সাথে যে অন্যায়গুলো করেছে, তাতে তার জেল হওয়ার কথা।’
তিনি বললেন, ‘আমার ছেলের যাবতীয় খরচ, মানে ভরণ-পোষণ থেকে আগামীতে পড়াশোনা যা কিছু আছে, সব আমি বহন করবো। এতো দিন যেভাবে করেছি। বাচ্চার ফুল গার্ডিয়ানশিপ এখন তার মায়ের। এ বিষয়ে যা কিছু বলার আমার আইনজীবীরা বলবেন।’
যদিও এই বিষয় নিয়ে শরিফুল রাজ অনেকটা নির্বিকার রয়েছেন। তিনি জানান, বিষয়টি তিনি সাংবাদিকদের কাছেই শুনেছেন, এখনও নোটিশ হাতে পাননি।
মাত্র সাত দিনের পরিচয়ে ২০২১ সালের ১৭ অক্টোবর গোপনে বিয়ে করেন রাজ-পরী এবং ২০২২ সালের জানুয়ারিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন তারা।
তাদের একমাত্র ছেলে পুত্র শাহীম মুহাম্মদ রাজ্যে ১০ আগস্ট তাদের ঘরে আসেন।
