বেশি বয়সেও ব্যায়ামে চাই সতর্কতা

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২১, ১৯:৩৪

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফিজিও থেরাপিস্ট’ ডেমিয়েন পওয়েল (পিটি) বলেন, “একজন সুস্থ, সবল তরুণ যখন হাঁটতে বের হয় তখন শরীরের নিচের অঙ্গের জোড়গুলো তাকে সমানভাবে শক্তি যোগায়। নিতম্বের জোড়, হাঁটু আর পায়ের পাতার জোড় সবই সমান পরিমাণ শক্তি সরবরাহ করে। তবে একজন বৃদ্ধ মানুষ যার বয়স ষাট কিংবা তারও বেশি, তিনি কিন্তু একই গতিতে হাঁটার শক্তি পান না।”

বয়সের সঙ্গে মানুষের হাঁটার গতি কমে, ‘পশ্চার’ বা দেহভঙ্গী ঠিক থাকে না। তাল হারিয়ে যেতে থাকে। তার সঙ্গে হাঁড়ের কোনো রোগ, হৃদরোগ, হাঁপানি কিংবা কোনো ব্যথা থাকলে হাঁটা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

এজন্য বৃদ্ধদের হাঁটার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।

স্ট্রেচিং করছেন না: পওয়েল বলেন, “বার্ধক্যের কারণে মনস্তাত্বিক যে পরিবর্তন আসে তা থেকে মানুষের হাঁটার ধরনে পরিবর্তন হয়। হাঁটাকে যখন ব্যায়াম হিসেবে নিচ্ছেন তখন তার আগে স্ট্রেচিং করে নিলে সেই প্রভাব কিছুটা দূর হবে।
‘এএসসিএম’ প্রশিক্ষক এবং ‘ফিট হাউস ডেভিস’য়ের প্রতিষ্ঠাতা লিসা হেরিংটন বলেন, “ব্যায়ামের জন্য হাঁটা শুরু করার আগে পিঠ, নিতম্ব, ‘কোয়াড’, ‘হ্যামস্ট্রিং’য়ের স্ট্রেচিং করতে হবে। সব বয়সের মানুষের জন্যেই এগুলো জরুরি। তবে বৃদ্ধদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।”

গান শোনা: হাঁটার সময় গান শোনা বৃদ্ধদের জন্য বিশেষ উপকারী বলে দাবি করেন বিশেষজ্ঞরা।

‘জার্নাল অফ ফিজিওথেরাপি’তে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, “স্ট্রোক থেকে সুস্থ হওয়া রোগীরা যদি হাঁটার সময় গান শোনার অভ্যাস করেন তবে তাদের হাঁটার গতি বাড়বে, প্রতি ধাপের দূরত্ব বাড়বে, শরীরের তাল বজায় রাখাও সুবিধা হবে।”

‘ব্রিস্টল নরডিক ওয়াকিং’য়ের বিশেষজ্ঞরা বলেন, “হাঁটার সময় মাথা সঠিক অবস্থানে থাকা চাই। ঘাড়কে মেরুদণ্ডের একটি অংশ ভেবে নিতে হবে। এজন্য মনে করুন আপনি নিজের মেরুদণ্ডকে প্রসারিত করছেন। চোয়াল থাকবে মাটির সঙ্গে সমান্তরাল।”

‘দ্য ভেগা মেথড’য়ের প্রবর্তক জো ভেগা (সিএসসিএস) বলেন, “কার্যকরভাবে হাঁটতে হলে কদম ফেলার সময় পায়ের গোড়ালি সবার আগে মাটি স্পর্শ করবে, এরপর সামনের অংশ। আর কদম তোলার সময় পায়ের বুড়ো আঙুল মাটিতে ধাক্কা দেবে।
এজন্য হাঁটা শুরু করার আগে ‘শোল্ডার স্রাগস’ নামক ব্যায়াম করে নিতে হবে হাঁটার আগে ও হাঁটার মাঝে।

সাবধানতা: বয়স যেহেতু বেড়েছে, তাই হাঁটতে গিয়ে যে কোনো দুর্ঘটনার সম্ভাবনা প্রবল।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্যানেট ডেপ্যাটি (সিপিটি), ‘এভিবড ক্যান এক্সারসাইজ’য়ের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, “বয়স্করা যখন হাঁটতে যাবেন তখন তাদের সঙ্গে অবশ্যই মোবাইল থাকতে হবে। যাদের কানে শোনা এবং চোখে দেখা নিয়ে সমস্যা আছে তাদের রাতে হাঁটতে যাওয়া উচিত হবে না। নিজের কি রোগ আছে এবং জরুরি সময়ে যোগাযোগের মানুষগুলোর নম্বর, ঠিকানা ইত্যাদি সঙ্গে থাকা জরুরি।”

অতিরিক্ত নরম জুতাও হাঁটার জন্য উপযোগী নয়। শক্ত জুতা পরতে হবে। শক্ত জুতার তুলনায় বরং নরম জুতা পরে হাঁটলেই ব্যথা হয় বেশি।

ওজন থাকা যাবে না: ডেপ্যাটি বলেন, “ব্যায়াম হিসেবে হাঁটার সময় সঙ্গে ব্যাগ বা এই ধরনের ভারী কিছু থাকা উচিত নয়। আর ব্যাগ যদি নিতেই হয় তবে এক কাঁধে নয়, দুই কাঁধে ঝোলানো হয় এমন ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে।”

হাতে পানির বোতল না রাখাও বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এই অসম ওজন শরীরের ভারসাম্য নষ্ট করবে।

ব্যায়াম ছাড়াই মেদ ঝরাবেন যেভাবে

আরও BUZZ

সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে নতুন নিয়ম আসছে? পর্যটন মৌসুম শুরুর আগে যা জানা যাচ্ছে

আইফোনকে টেক্কা দিতে প্রস্তুত ওপ্পো? ColorOS 17 নিয়ে তোলপাড় টেক দুনিয়ায়!

দুর্গাপূজার ছুটিতে ঘুরে আসুন বাংলাদেশের সেরা ৭ গন্তব্যে, কম খরচে জমবে আনন্দ

Nothing OS 5.0 আসছে ১০ ফোনে, তালিকায় যেসব মডেল

চ্যাম্পিয়নস লিগে অঘটনের রাত! বায়ার্নের পয়েন্ট হারানো, বার্সার প্রত্যাবর্তন—আজ সিটি-পিএসজি মহারণ, রোমার মাঠে রিয়াল মাদ্রিদের পরীক্ষা