প্রযুক্তি আমাদের নিয়ে গিয়েছে অন্নন উচ্চতায়। আমরা ঘুম থেকে উঠে, ঘুমানো পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি কাজে প্রযুক্তির হেল্প নিয়ে থাকি। প্রযুক্তি আমাদের যতটা উপকার করেছে বলে আমরা ভবি, আসলেই কি ততোটা উপক্রিত হয়েছি আমরা?
ধরুন সোসিয়াল মিডিয়া আসক্তি?
প্রায় ২১০ মিলিয়ন মানুষ সোসিয়াল মিডিয়া আসক্তিতে আক্রান্ত।
যার বড় একটা অংশ ফেসবুক ব্যবহরকারী।
ফেসবুক এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ার কর্মকর্তারা শিকার করেছেন যে, যুবসমাজ বিপথে যাওয়ার অন্যতমো কারন।
আমাদের উচিত সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যাবহার কমিয়ে দেওয়া এবং ততটাই ব্যবহার করা, যতটা আমাদের উপকারী।
কিছু সময়ের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিজেকে দূরে রেখে নিজের জীবনের দিকে মনোযগী হাওয়াই হলো সোশ্যাল মিডিয়া ডিটক্স।
কাদের সোশ্যাল মিডিয়া ডিটক্স প্রয়োজন?
এটি তাদের ই প্রয়োজন, যারা খুব বাজে ভাবে সোশ্যাল মিডিয়া তে অশক্ত হয়ে পড়েছে। এটা বোঝার জন্যে কিছু লক্ষণ যেমন, কাজের ফাঁকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যগুলোতে ঢুকে পড়া, পড়াশুনার সময় প্রায় পুরোটাই এই ভাবে কাটিয়ে দেওয়া, খাবার খাওয়ার সময় ফোন হাতে নিয়ে থাকা, পরিবার অথবা বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলার সময় মোবাইল হাতে নিয়ে থাকা। এতে করে চারপাশের মানুষ গুলো মন্নক্ষুন হয়।
আবার অনেক সময় সেই ব্যক্তি, সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে বাস্তব জীবনের তুলনা করে হীন্মন্যতায় ভোগে। এই লক্ষণ গুলো প্রকাশ পেলে সে ব্যাক্তির সোশ্যাল মিডিয়া ডিটক্স প্রয়োজন।
সোশ্যাল মিডিয়া ডিটক্স এর উপায়
১) পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে সময় কাটান
কাজের পর আপনি আপনার যে সময় টুকু সোশ্যাল মিডিয়ার পিছনে ব্যয় করতেন, সেই সময়টা পরিবার অথবা বন্ধুদের সাথে কাটাতে পারেন। এতে করে তাদের সাথে আপনার সম্পর্ক আরও ভালো হবে এবং আপনিও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকতে পারবেন।
২) সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কিত অ্যাপ ডিলিট করুন
যে অ্যাপ গুলোতে আপনার সময় কাটে, সে অ্যাপ গুলো ফোন থেকে ডিলিট করে দিন। এই অ্যাপ গুলো যতক্ষণ আপনার মোবাইলে থাকবে, আপনি ততবার কোনো না কোনো ভাবে এই অ্যাপ গুলোতে ঢুকার উচিলা খুঁজবেন এবং যতবার ঢুকবেন ততবার অনেকটা সময় নষ্ট করবেন। আবার আপনার ফোনেই আছে কিছু ফিচার যা আপনাকে এই অ্যাপ গুলো থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করবে। যেমন: জেন মুড
৩) মোবাইলে অ্যালার্ম দাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন
সকালে ঘুম থেকে উঠার পর অ্যালার্ম বন্ধ করতে গিয়ে আমরা আমাদের নিজের অজান্তেই সোশ্যাল মিডিয়ার মাঝে আটকা পড়ে যাই। ঘুম থেকে উঠার জন্য অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যাবহার করার অভ্যাস করুন।
৪) বাগান করার অভ্যাস করুন
আপনার বাসার ছাদে অথবা বারান্দায় বাগান করার অভ্যাস করতে পারেন। এতে আপনার সময় যেমন কাটবে, ঠিক তেমন ভাবে বাগান আপনার মন ভালো ও সতেজ রাখবে। পাশাপশি আপনি চাইলে বিড়াল অথবা অন্য কোনো প্রাণী রাখতে পারেন আপনার সাথে।
৫) ইচ্ছাশক্তি
একজন মানুষ তাই করতে পারে, যা সে চায়। এর জন্য দরকার প্রচন্ড ইচ্ছাশক্তি। ইচ্ছাশক্তি বাড়ানোর জন্য আপনি মেডিটেশন করতে পারেন। অথবা ঘুম থেকে উঠার পর কিছু সময় যোগব্যায়াম করতে পারেন। যা আপনার শরীর এর পাশাপাশি আপনার মন কেও সতেজ রাখতে সাহায্য করবে।
আমাদের চারপাশের সব কিছু নিয়েই আমাদের জীবন। এই সময়টা মোবাইলের মাঝে না নষ্ট করে উপভোগ করা উচিত। পরিবার, প্রিয়জন, বন্ধু আর নিজের জন্য সময় দিন। ভালো থাকুন নিজেকে এবং চারপাশের সবাই কে নিয়ে