ডিজিটাল বাংলাদেশের যে লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়া, সেটিকে আরো একধাপ ত্বরান্বিত করলো ইলেক্ট্রনিক স্বাস্থ্য কার্ড। দেশের অন্যান্য সেক্টরের মত পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকেও ডিজিটাল পদ্ধতির মাঝে আনা হবে। সরকার দেশের প্রতিটি মানুষকে ইলেক্ট্রনিক স্বাস্থ্য কার্ড দেবে যা সরাসরি সার্ভারের সাথে যুক্ত থাকবে। এতে একজন মানুষের চিকিৎসা সম্পর্কিত সকল তথ্য থাকবে। জনবল ও সেবাদাতাদের আন্তরিকতা বড় চ্যালেঞ্জ হলেও ১৭ শ কোটি টাকার প্রজেক্টটি নিয়ে অনেকে আশাবাদী।
দেশের স্বাস্থ্য খাতে অনেক উন্নয়ন হলেও, হয়নি তেমন আধুনিকায়ন ও গড়ে ওঠেনি টেকসই ব্যবস্থা। নানা সংকট আর চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়ে এবার স্বাস্থ্য খাতকে ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের মতো রোগীদের দেওয়া হবে একটি ইলেক্ট্রনিক কার্ড।
৬২৩টি সরকারি হাসপাতালকে ডিজিটাল করা হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক শাহাদাত হোসেন বলেন, কেন্দ্রীয় সার্ভারে যুক্ত থাকবে প্রতিটি কম্পিউটার। রোগীর স্বাস্থ্য কার্ডের নম্বর দিয়ে সার্ভারেই ব্যবস্থাপত্র লিখবেন চিকিৎসক। পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলও সেখানে আপলোড করবে ল্যাবরেটরি বিভাগ। পরে যে কোনো সময় চিকিৎসকের কাছে গেলে রোগীর স্বাস্থ্য কার্ডের নম্বর দিয়ে সার্ভারে সার্চ করলেই পাওয়া যাবে আগের সব তথ্য। তবে শুরুতে কিছুদিন আইডি কার্ডের পাশাপাশি কাগজের ব্যবস্থাপত্রও পাবেন রোগীরা।
আগামী মাস থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ৪০টি হাসপাতালে শুরু হচ্ছে এই প্রকল্প। ২০২৯ সালের মধ্যে ১০ কোটি মানুষকে হেলথ কার্ড দিতে চায় স্বাস্থ্য বিভাগ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য-অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ জানান, ইলেক্ট্রনিক স্বাস্থ্য কার্ডের ধারণাটি খুবই ভাল। তবে এ পদ্ধতি বাস্তবায়নে যে লোকবল ও লজিস্টিকস প্রয়োজন, তার ব্যবস্থা করে যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমেই এ পদ্ধতির সুফল পাওয়া যাবে।
জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মসনদের নম্বর ও অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হবে রোগীর স্বাস্থ্য কার্ডের নম্বর।
