অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিয়ে তিনি প্রমান করলেন কেন, অধিনায়ক তাকে ফিরে আসতে অনুরোদ করেছিলেন। কারণ বেন স্টোকসের অনুরোধেই অবসর ভেঙে টেস্টে ফিরেছিলেন মঈন আলী।
ট্র্যাভিস হেড, মিচেল মার্শ ও প্যাট কামিন্স এর গুরুতপূর্ণ ৩ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছেন মঈন আলীই। প্রথম দুই ম্যাচ হার দিয়ে শুরু করলেও পাঁচ ম্যাচের অ্যাশেজ সিরিজটা শেষ পর্যন্ত ড্র করেছে ইংল্যান্ড।
অধিনায়ক ও বন্ধু স্টোকসের আহ্বানে সাড়া দিয়ে টেস্টে ফেরা মঈন আলী কাল ব্রডের সঙ্গে বিদায় নিলেন টেস্ট ক্রিকেট থেকে।
স্পিনার জ্যাক লিচ ইনজুরিতে পড়লে স্টোকস মঈন আলীকে টেস্টে ফিরে আসতে অনুরোদ করেন। মঈনকে পাঠানো সেই বার্তায় লেখা ছিল ‘অ্যাশেজ?’২০২১ সালে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় বলা মঈন আলী নিছক মজা ধরে নিয়েছিলেন।
তবে কাল মঈন আলী বললেন, এবার তিনি পাকাপাকি ভাবে টেস্ট ক্রিকেট ছাড়ছেন। জয়ের পর স্কাই স্পোর্টসকে সেটি জানাতে গিয়ে একটু মজাও করলেন মঈন, ‘স্টোকসি আবার আমাকে (ফিরতে অনুরোধ করে) মেসেজ পাঠালে সেই মেসেজ আমি ডিলিট করে দেব। (টেস্টে) আমার পালা শেষ। আমি (ফেরাটা) উপভোগ করেছি। আর এভাবে শেষ করতে পারাটা তো বড় কিছুই।’
৬৮ টেস্টে ২০৪ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ৩০৯৪ রান করেছেন এই অলরাউন্ডার। যদিও ইনজুরির কারণে লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে খেলা হয়নি তাঁর। এক সমর্থকের পাঠানো মধুমিশ্রিত ওষুধ ব্যবহার করেই স্পিনিং-আঙুলের সেই ইনজুরি থেকে সুস্থ হয়ে উঠে আবার দলে ফেরেন মঈন আলী।
এরপর শেষ তিন টেস্টেই বড় ভূমিকা রেখেছেন অফ স্পিন বোলিং দিয়ে। ওল্ড ট্রাফোর্ডে তিনে নেমেই ৫৪ রানের ইনিংস খেলেছেন। তবে ওভালে শেষ টেস্টে কুঁচকির চোট অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে বল করতে দেয়নি তাঁকে, নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামতে পেরেছেন ৭ নম্বরে। দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য ৩ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং-ধসে বড় ভূমিকা রেখেছেন মঈন।
ম্যাচ শেষে মঈন বলেন, ‘ফিরতে পেরে ভালোই লেগেছিল। বাজ (ম্যাককালাম) ও স্টোকসির সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করেছি, এমন একটা দলে খেলেছি, যেখানে জিমি (অ্যান্ডারসন) ও ব্রডি ছিল। এই দুজন আমার ক্যারিয়ারের শুরুতেই ছিলেন। দারুণ অনুভূতি নিয়েই চলে যাচ্ছি। ভালো লাগছে যে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে জিতে বিদায় নিতে পারলাম, আর ওই জয়ে তো আমারও একটু-আধটু অবদান আছে।’
