Bongobuzz | Lifestyle & Health
রাতের খাবার শেষ, ঘরের আলো নিভিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়েছেন। ঘুমানোর আগে একবার ফোনটা হাতে নিলেন। ভাবলেন, কয়েকটি মেসেজ দেখে কিংবা দু-একটি রিলস স্ক্রল করেই ফোন রেখে দেবেন। কিন্তু সেই ‘আর পাঁচ মিনিট’ কখন যে ৩০ মিনিট কিংবা এক ঘণ্টায় পরিণত হয়, তা অনেক সময় খেয়ালই থাকে না। একসময় চোখে ঘুম চলে আসে, অথচ ফোনটি তখনো হাতেই রয়ে যায়।
পরদিন সকালে অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙলেও শরীর ভারী লাগে, কাজে মন বসতে চায় না। আবার রাত হলে একই অভ্যাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে। এভাবেই অনেকের দৈনন্দিন জীবনে তৈরি হয় একটি চক্র—দেরিতে ঘুমানো, সকালে ক্লান্ত থাকা এবং দিনের শেষে আবার ফোনের পর্দায় ডুবে যাওয়া।
কিন্তু ঘুমানোর আগে মাত্র ৩০ থেকে ৬০ মিনিট ফোন ব্যবহার না করলে কি এই অভ্যাসে পরিবর্তন আনা সম্ভব? সাত দিন এমন একটি রুটিন অনুসরণ করলে ঘুম, মেজাজ ও মনোযোগে কী ধরনের পার্থক্য দেখা যেতে পারে?
বিষয়টি শুধু ফোনের নীল আলো বা ব্লু লাইটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ফোনের কনটেন্ট, মানসিক উত্তেজনা, নোটিফিকেশন এবং ঘুমানোর সময় পিছিয়ে দেওয়ার প্রবণতাও এর সঙ্গে জড়িত। চলুন, জেনে নেওয়া যাক ঘুমের আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকার সম্ভাব্য প্রভাব এবং কীভাবে শুরু করবেন নিজের সাত দিনের চ্যালেঞ্জ।
কেন ঘুমানোর আগে ফোন দেখা ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে?
ঘুমের সময় নিয়ন্ত্রণে শরীরের একটি স্বাভাবিক জৈবিক ব্যবস্থা কাজ করে, যাকে বলা হয় সার্কাডিয়ান রিদম বা দেহঘড়ি। আলো-অন্ধকারের পরিবর্তন এই ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে। সন্ধ্যার পর আলো কমতে থাকলে শরীর ধীরে ধীরে বিশ্রাম ও ঘুমের জন্য প্রস্তুত হয়।
এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে মেলাটোনিন নামের একটি হরমোন। সন্ধ্যার দিকে অন্ধকার বাড়লে সাধারণত এর নিঃসরণ বাড়তে শুরু করে। কিন্তু রাতে উজ্জ্বল স্ক্রিনের দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকা এই স্বাভাবিক সংকেতকে ব্যাহত করতে পারে। বিশেষ করে স্ক্রিনের আলো, ব্যবহারের সময় এবং আলোর তীব্রতার ওপর এর প্রভাব নির্ভর করে।
তবে ফোনের আলোই একমাত্র সমস্যা নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন পোস্ট, ভিডিও, বার্তা কিংবা খবর দেখতে দেখতে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। কোনো কনটেন্ট আনন্দ দেয়, কোনোটি উদ্বেগ তৈরি করে, আবার কোনোটি পরবর্তী ভিডিও দেখার আগ্রহ বাড়িয়ে তোলে।
ফলে শরীর ক্লান্ত হলেও মন সহজে বিশ্রামের অবস্থায় যেতে পারে না। আর ফোন ব্যবহার করতে গিয়ে ঘুমানোর নির্ধারিত সময় পিছিয়ে গেলে মোট ঘুমের সময়ও কমে যায়।
অর্থাৎ, ঘুমের আগে ফোন ব্যবহার কমানোর সম্ভাব্য উপকার তিনটি বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত—আলোর প্রভাব কমানো, মানসিক উদ্দীপনা হ্রাস এবং পর্যাপ্ত ঘুমের জন্য সময় নিশ্চিত করা।
গবেষণায় ঘুমের আগে স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে কম ঘুম, দেরিতে ঘুমানো এবং দিনের বেলা ক্লান্তির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে সবার ক্ষেত্রে প্রভাব সমান নয়, আর সাত দিন ফোন ব্যবহার কমালেই যে প্রত্যেকের ঘুমের সমস্যা দূর হবে, এমন নিশ্চয়তাও নেই।
প্রথম ১–২ দিন: ফোন ছাড়া সময় কাটানো কঠিন লাগতে পারে
চ্যালেঞ্জের প্রথম দুই দিনই অনেকের কাছে সবচেয়ে কঠিন মনে হতে পারে। দীর্ঘদিনের অভ্যাস হঠাৎ বদলালে বারবার ফোন হাতে নেওয়ার ইচ্ছা হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
১. বারবার ফোন দেখার তাগিদ অনুভব করা
কোনো নোটিফিকেশন না এলেও মনে হতে পারে, কেউ হয়তো মেসেজ দিয়েছে, নতুন কিছু পোস্ট হয়েছে কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো খবর মিস হয়ে যাচ্ছে। কখনো পকেটে বা পাশে রাখা ফোন থেকে নোটিফিকেশন এসেছে বলেও ভুল মনে হতে পারে। এ ধরনের অভিজ্ঞতাকে ফ্যান্টম নোটিফিকেশন বা ফ্যান্টম ভাইব্রেশন বলা হয়।
এটি সবার হয় না এবং একে সরাসরি কোনো রোগের লক্ষণও বলা যায় না। বরং নিয়মিত ফোন পরীক্ষা করার অভ্যাস থেকে এমন প্রত্যাশা তৈরি হতে পারে।
২. ফোন ছাড়া ঘুমাতে অস্বস্তি লাগা
রাতে ভিডিও দেখা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা যদি ঘুমের আগের নিয়মিত অভ্যাস হয়, তাহলে সেটি বাদ দিলে প্রথমে সময়টা ফাঁকা লাগতে পারে। মনে হতে পারে, ঘুমানোর আগে আর কিছু করার নেই।
এই সময়ে ফোনের বদলে বই পড়া, ডায়েরি লেখা, পরদিনের কাজের তালিকা তৈরি করা কিংবা হালকা আলোতে শান্তভাবে বসে থাকা কাজে আসতে পারে। উদ্দেশ্য হলো মস্তিষ্ককে ধীরে ধীরে দিনের ব্যস্ততা থেকে বিশ্রামের দিকে নিয়ে যাওয়া।
৩. ঘুম আসতে সময় লাগতে পারে
ফোন বন্ধ করলেই প্রথম রাতে দ্রুত ঘুম চলে আসবে—এমনটা নয়। আপনার ঘুমের সময়সূচি আগে থেকেই অনিয়মিত হলে কিংবা রাতে দুশ্চিন্তা থাকলে ঘুম আসতে আগের মতোই সময় লাগতে পারে।
তাই প্রথম এক বা দুই দিনের অভিজ্ঞতা দিয়ে পুরো চ্যালেঞ্জের ফল বিচার করবেন না। বরং প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও সকালে ওঠার চেষ্টা করুন।
৩–৪ দিন: ঘুমের রুটিনে পরিবর্তন বোঝা যেতে পারে
কয়েক দিন ফোন দূরে রাখার পর আপনি হয়তো খেয়াল করবেন, ঘুমানোর আগে অযথা সময় নষ্ট হচ্ছে না। তবে এই পর্যায়ে শরীরের নির্দিষ্ট হরমোন পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যায় বা ঘুমের চক্র নিশ্চিতভাবে বদলে যায়—এমন দাবি করার মতো প্রমাণ নেই। পরিবর্তন ব্যক্তি ও অভ্যাসভেদে আলাদা হতে পারে।
৪. মেলাটোনিনের স্বাভাবিক ছন্দে সহায়তা
মেলাটোনিন শরীরকে রাতের সংকেত দিতে সাহায্য করে। সন্ধ্যায় উজ্জ্বল আলোতে দীর্ঘক্ষণ থাকলে এর স্বাভাবিক নিঃসরণে প্রভাব পড়তে পারে। ঘুমানোর আগে স্ক্রিন বন্ধ রাখা এবং ঘরের আলো কমিয়ে আনা শরীরকে বিশ্রামের উপযোগী পরিবেশ দিতে পারে।
এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি: সমস্যাটি শুধু ব্লু লাইট নয়। উত্তেজনাপূর্ণ ভিডিও, অনবরত স্ক্রলিং, অনলাইন কথোপকথন এবং ঘুমানোর সময় পিছিয়ে দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
৫. ঘুমের সময় বাড়ার সুযোগ তৈরি
ধরা যাক, আপনি প্রতিদিন রাতে ৪৫ মিনিট ফোন দেখেন এবং সেই কারণে দেরিতে ঘুমান। ওই সময়টুকু ফোন থেকে দূরে থাকলে ঘুমের জন্য অতিরিক্ত সময় পাওয়া সম্ভব।
তবে ফোন বন্ধ রাখার পরও যদি অন্য কাজে রাত জাগেন, তাহলে ঘুমের সময় বাড়বে না। তাই লক্ষ্য শুধু স্ক্রিন বন্ধ করা নয়; সেই সময়টিকে সত্যিকার অর্থে বিশ্রামের জন্য ব্যবহার করা।
৬. চোখের ক্লান্তি কিছুটা কমতে পারে
দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখে শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া, ঝাপসা দেখা বা ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে। এর একটি কারণ হলো স্ক্রিন দেখার সময় অনেকেই স্বাভাবিকের চেয়ে কম পলক ফেলেন।
রাতে ফোন ব্যবহার বন্ধ করলে চোখ বিশ্রাম পেতে পারে। তবে চোখের সমস্যা সব সময় স্ক্রিনের কারণে হয় না। উপসর্গ স্থায়ী হলে বা দৃষ্টিতে পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৫–৭ দিন: মেজাজ, মনোযোগ ও সকালের সতেজতায় কী বদল আসতে পারে?
চ্যালেঞ্জের শেষ তিন দিনে নিজের ঘুমের অভ্যাস সম্পর্কে কিছুটা পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে ফোন ব্যবহারের কারণে যদি নিয়মিত ঘুমাতে দেরি হতো, তাহলে পরিবর্তনগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি বোঝা সম্ভব।
৭. সকালে ঘুম থেকে ওঠা সহজ মনে হতে পারে
পর্যাপ্ত ও ভালো মানের ঘুম হলে সকালে সতেজ অনুভব করার সম্ভাবনা বাড়ে। রাতে অকারণে স্ক্রলিং বন্ধ করে সময়মতো ঘুমাতে পারলে সকালে ক্লান্তি কম অনুভূত হতে পারে।
তবে শুধু ফোন বন্ধ রাখলেই এই পরিবর্তন আসবে না। বয়স অনুযায়ী পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ঘুমের সময়সূচি এবং আরামদায়ক পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ।
৮. মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে
পর্যাপ্ত ঘুম শেখা, স্মৃতি ধরে রাখা, মনোযোগ দেওয়া এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের অভাবে দিনের বেলায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।
রাতে ফোন ব্যবহারের সময় কমিয়ে যদি ঘুমের পরিমাণ ও মান উন্নত হয়, তাহলে পড়াশোনা, কাজ কিংবা দৈনন্দিন দায়িত্ব পালনে সুবিধা অনুভব করতে পারেন।
এখানে মনে রাখা প্রয়োজন, ফোন বন্ধ করলেই মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা সাত দিনে নাটকীয়ভাবে বেড়ে যাবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। উপকারটি মূলত ভালো ঘুমের সঙ্গে সম্পর্কিত।
৯. মানসিক অস্থিরতা কিছুটা কমতে পারে
ঘুমানোর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবনযাপন, নেতিবাচক খবর কিংবা উদ্বেগ তৈরি করে এমন কনটেন্ট দেখতে থাকলে মন অস্থির হয়ে উঠতে পারে। আবার কাজের মেসেজ বা অনলাইন আলোচনা থেকেও ঘুমের আগে মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে।
এই সময়টুকু স্ক্রিনমুক্ত রাখলে দিনের ঘটনা নিয়ে ভাবা, নিজের অনুভূতি লিখে রাখা কিংবা শান্তভাবে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
ফলে কেউ কেউ মানসিকভাবে হালকা অনুভব করতে পারেন। তবে উদ্বেগ কমবেই, এমন নয়; উদ্বেগের পেছনে আরও অনেক কারণ থাকতে পারে।
১০. ঘুমের গভীরতা ও REM Sleep কি বাড়বে?
ঘুমের সময় শরীর বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যায়। এর মধ্যে রয়েছে ডিপ স্লিপ বা গভীর ঘুম এবং REM Sleep, যা শারীরিক পুনরুদ্ধার, শেখা ও স্মৃতির বিভিন্ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।
কিন্তু সাত দিন ফোন না দেখলে এই দুই পর্যায়ের সময় নিশ্চিতভাবে বাড়বে, এমন দাবি করা ঠিক হবে না। ফোন ব্যবহারের পরিবর্তন ঘুমের পরিবেশ ও সময়কে উন্নত করতে পারে, আর প্রকৃত ফল নির্ভর করবে সামগ্রিক ঘুমের অভ্যাসের ওপর।
নিজেকে সতেজ লাগছে কি না, রাতে ঘুমাতে কতটা সময় লাগছে এবং সকালে কেমন অনুভব করছেন—এসব পর্যবেক্ষণ দিয়ে শুরু করুন। শুধু ঘুমের পর্যায় সম্পর্কে অনুমান করে নিজের অগ্রগতি বিচার করবেন না।
কীভাবে শুরু করবেন ৭ দিনের ফোনবিহীন রাতের চ্যালেঞ্জ?
এই চ্যালেঞ্জে ফোন পুরোপুরি ত্যাগ করতে হবে না। শুধু ঘুমানোর আগে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফোন থেকে দূরে থাকতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (CDC) ঘুমের অন্তত ৩০ মিনিট আগে ইলেকট্রনিক ডিভাইস বন্ধ রাখার পরামর্শ দেয়।
দিন ১: ঘুমানোর ৩০ মিনিট আগে ফোন বন্ধ রাখুন
প্রথম দিন থেকেই কঠিন নিয়ম তৈরি করবেন না। ঘুমানোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে ফোন ব্যবহার বন্ধ করে দিন। এই সময়টুকু বিশ্রামের জন্য রাখুন।
দিন ২: ফোন বিছানা থেকে দূরে রাখুন
ফোন এমন জায়গায় রাখুন, যাতে শুয়ে শুয়ে সহজেই হাতে নেওয়া না যায়। ফোন কাছে থাকলে বারবার পরীক্ষা করার প্রবণতা বাড়তে পারে।
দিন ৩: বই পড়ুন অথবা ডায়েরি লিখুন
ফোনের পরিবর্তে পছন্দের বই পড়ুন, দিনের অভিজ্ঞতা লিখুন অথবা পরদিনের কাজের তালিকা তৈরি করুন। এতে স্ক্রিন ছাড়া সময় কাটানোর অভ্যাস তৈরি হবে।
দিন ৪: DND ও নোটিফিকেশন শিডিউল চালু করুন
ঘুমানোর সময় অনুযায়ী ডু নট ডিস্টার্ব (DND) চালু রাখুন। জরুরি যোগাযোগের প্রয়োজন থাকলে প্রয়োজনীয় নম্বর থেকে কল আসার অনুমতি দিয়ে রাখতে পারেন।
দিন ৫: স্ক্রিনমুক্ত সময় ৪৫–৬০ মিনিট করুন
আগের দিনগুলো স্বস্তিদায়ক হলে এবার ঘুমানোর ৪৫ থেকে ৬০ মিনিট আগে ফোন সরিয়ে রাখুন। একবারে অভ্যাস বদলাতে অসুবিধা হলে ৩০ মিনিটের নিয়মেই থাকুন।
দিন ৬: ঘুমের সময় নির্দিষ্ট রাখুন
প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ঘুমাতে যান এবং সকালে ওঠার চেষ্টা করুন। শুধু ফোন বন্ধ রাখার পাশাপাশি ঘুমের নিয়মিত সময়সূচি বজায় রাখুন।
দিন ৭: নিজের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করুন
গত ছয় দিনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সপ্তম দিনের ঘুম তুলনা করুন। ফোন ব্যবহারের সময়, ঘুমানোর সময়, সকালের অনুভূতি এবং দিনের মনোযোগে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না, তা লিখে রাখুন।
চ্যালেঞ্জ সফল করতে ৫টি সহজ কৌশল
১. ফোন বিছানা থেকে দূরে রাখুন
সম্ভব হলে ফোন অন্য টেবিলে বা ঘরের নির্দিষ্ট জায়গায় চার্জ দিন। সকালে অ্যালার্মের জন্য ফোন প্রয়োজন হলে সেটি এমন দূরত্বে রাখুন, যাতে বিছানায় শুয়ে সহজেই হাতে নেওয়া না যায়।
২. অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যবহার করতে পারেন
ফোনের অ্যালার্মের বদলে সাধারণ অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যবহার করলে রাতে ফোন পাশে রাখার প্রয়োজন কমতে পারে। এটি বাধ্যতামূলক নয়, বরং একটি বিকল্প।
৩. নোটিফিকেশন সাইলেন্ট রাখুন
ঘুমানোর সময় ফোনের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন। জরুরি যোগাযোগের প্রয়োজন থাকলে প্রয়োজনীয় কল চালু রাখার ব্যবস্থা করুন।
৪. ফোনের বদলে বিকল্প অভ্যাস তৈরি করুন
বই পড়া, হালকা স্ট্রেচিং, ডায়েরি লেখা কিংবা পরদিনের কাজ গুছিয়ে রাখার মতো অভ্যাস বেছে নিন। ফোন সরিয়ে রেখে কী করবেন, তা আগে থেকে ঠিক করলে চ্যালেঞ্জ সহজ হয়।
৫. প্রতিদিন নিজের ঘুমের অভিজ্ঞতা লিখুন
কখন ঘুমাতে গেলেন, ঘুম আসতে কেমন সময় লাগল এবং সকালে কেমন লাগল—এই তিনটি বিষয় সংক্ষেপে লিখে রাখুন। এতে পরিবর্তনগুলো বোঝা সহজ হবে।
৭ দিন শেষে কীভাবে বুঝবেন পরিবর্তন হয়েছে কি না?
চ্যালেঞ্জের শুরুতে এবং শেষে নিজের অভিজ্ঞতা তুলনা করুন। কোনো একটি রাতে ভালো ঘুম হয়েছে কি না, তার চেয়ে পুরো সপ্তাহের প্রবণতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ঘুমের সময়: আগের তুলনায় কি আগে ঘুমাতে যাচ্ছেন?
ঘুম আসা: বিছানায় যাওয়ার পর ঘুম আসতে কি কম সময় লাগছে?
সকালের অনুভূতি: ঘুম থেকে উঠে কি তুলনামূলক সতেজ লাগছে?
মনোযোগ: দিনের কাজ বা পড়াশোনায় কি মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হচ্ছে?
ফোন ব্যবহারের অভ্যাস: বিছানায় শুয়ে অনবরত স্ক্রল করার প্রবণতা কি কমেছে?
সবগুলো প্রশ্নের উত্তর ইতিবাচক হতে হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। সাত দিনে স্পষ্ট পরিবর্তন না দেখলেও হতাশ হওয়ার কারণ নেই। আপনার ঘুমের সময়, দৈনন্দিন চাপ, শারীরিক অবস্থা এবং অন্যান্য অভ্যাসও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
ফোন বন্ধ রাখার পরও ঘুম না এলে কী করবেন?
ফোন ব্যবহার কমানো ভালো ঘুমের একটি সহায়ক অভ্যাস, কিন্তু ঘুমের সব সমস্যার সমাধান নয়। নিয়মিত ঘুমের সময় বজায় রাখুন, রাতে ক্যাফেইন এড়িয়ে চলুন এবং ঘুমানোর আগে শান্ত পরিবেশ তৈরি করুন।
বিছানায় শুয়ে দীর্ঘক্ষণ ঘুম না এলে জোর করে ঘুমানোর চেষ্টা না করে উঠে মৃদু আলোতে শান্ত কোনো কাজ করতে পারেন। ঘুম ঘুম লাগলে আবার বিছানায় ফিরে যান।
যদি নিয়মিত ঘুমাতে সমস্যা হয়, দিনের বেলায় অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকে বা ঘুমের সমস্যা দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
উপসংহার: আজ রাত থেকেই শুরু হোক ছোট্ট পরিবর্তন
ঘুমানোর আগে ফোন দেখা বন্ধ করা কোনো জাদুকরি সমাধান নয়। তবে এই ছোট পরিবর্তন অকারণে রাত জাগা কমাতে, ঘুমের জন্য সময় বের করতে এবং আরও শান্ত একটি রাতের রুটিন তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে।
সাত দিনের চ্যালেঞ্জের মূল উদ্দেশ্য ফোনকে জীবন থেকে বাদ দেওয়া নয়; বরং কখন ফোন ব্যবহার করবেন আর কখন নিজের বিশ্রামকে অগ্রাধিকার দেবেন, সেই নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া।
আজ রাতে ঘুমানোর ৩০ মিনিট আগে ফোনটি দূরে রেখে দিন। পরদিন সকালে নিজের অনুভূতি খেয়াল করুন। এরপর একই অভ্যাস এক সপ্তাহ চালিয়ে দেখুন—আপনার ঘুম ও দৈনন্দিন জীবনে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসে কি না।
আপনি কি আজ রাত থেকেই ৭ দিনের এই চ্যালেঞ্জ শুরু করতে প্রস্তুত? আপনার অভিজ্ঞতা বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন এবং তাঁদেরও এই অভ্যাসটি চেষ্টা করতে উৎসাহিত করুন।
তথ্যসূত্র
১. CDC — https://www.cdc.gov/sleep/about/index.html
২. National Library of Medicine — https://pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/38806392/