১২০৪ কোটি বেতনে সৌদি আরবে নেইমার

বার্সেলোনায় না, সৌদি ক্লাব আল হিলালে গেলেন ব্রাজিলের ৩১ বছর বয়সী মহাতারকা। পিএসজির বড় অঙ্কের চাহিদা আর বার্সেলোনায় যেতে হলো করতে হবে অনেক হিসাব নিকাশ। তাই আর অত ঝামেলায় আর গেলেন না নেইমার। তিনি যুক্ত হলেন সৌদি ক্লাবে। 

বার্সাতে ফেরার গুঞ্জন শোনা গেলেও সেখানে ছিল অনেক রকম জটিলতা। এর মাঝে দৃশপটে ঢুকে পরে সৌদির ক্লাবটি এবং শেষ পর্যন্ত তারাই নেইমারকে নিয়ে নিতে সক্ষম হয়। 

পিএসজিকে ৯ কোটি ইউরোর পাশাপাশি আরও প্রায় ১ কোটি ইউরো বোনাস দেয়ার চুক্তিতে (শর্তসাপেক্ষ) নেইমারকে কিনে নিচ্ছে আল হিলাল। ৩১ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান সৌদি আরবের ক্লাবটিতে বছরে বেতন  পাবেন ১০ কোটি ইউরো যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২০৪ কোটি টাকার মতো। 

ইউরোপের ট্রান্সফার মার্কেটের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দুই সাংবাদিক ফাব্রিসিও রোমানো ও ডেভিড অর্নস্টেইন দুজনই নিশ্চিত করেছেন নেইমারের সৌদি আরবে যাওয়ার খবর। অর্নস্টেইন জানিয়েছেন, নেইমারের স্বাস্থ্যপরীক্ষাও চলছে।

সৌদি আরবে নেইমার

ঠিকঠাক ভাবে সব হয়ে গেলে শুধু আনুষ্ঠানিকতাটুকু বাকি থাকবে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, বেনজেমা, মানে, ফিরমিনোদের এরই মধ্যে নিয়ে গেছে সৌদি লিগ, তবু তারকাখ্যাতির পাশাপাশি বয়স বিবেচনায় নেইমারই সম্ভবত সৌদি লিগের সবচেয়ে বড় দলবদল! কারণ মাত্র ৩১ বছর বয়সেই সৌদি আরবের মতো লিগে খেলতে চলে যাবেন নেইমার, যেখানে তিনি চাইলে ইউরোপে আরো বেশ কিছু দিন খেলা চালিয়ে যেতে পারতেন।

নেইমারকে বার্সেলোনায় যেতে হলে অনেক কিছুর মুখোমুখি হতে হতো। প্রথমত ৫ কোটি ৬০ লাখ ইউরো বেতনের বদলে ১ কোটি ৫০ লাখ ইউরোতে খুশি হতে হতো। এর সাথে কিছু শর্ত ছিল, বার্সায় ফিরতে হলে পিএসজিতে চুক্তি বাতিল করে আসতে হবে নেইমারকে।

কারণ, চুক্তি বাতিল না করলে নেইমারকে কিনতে হতো বার্সাকে, যা বর্তমান অবস্থায় সম্ভব না বার্সার পক্ষে। অন্যদিকে চুক্তি বাতিল করতে গেলে নেইমারকে নিজের পকেট থেকে প্রায় ৫-৬ কোটি ইউরো দিতে হতো পিএসজিকে।

অত ঝামেলায় আর গেলেন না নেইমার। পিএসজি তাকে বিক্রি করে দিতে চেয়েছে আর নেইমারও আর গুমোট পরিবেশে থাকতে চাননি। গত কয়েক বছরে বড় বড় চোটে ভুগতে থাকা নেইমারকে বিশাল বেতনে নেয়ার আগ্রহ ইউরোপে খুব বেশি ক্লাবও দেখায়নি। এর মধ্যে সুযোগটা কাজে সৌদি  ক্লাব আল হিলাল।

পিএসজিকে প্রায় ১০ কোটি ইউরোর প্রস্তাব দিয়েছে তারা যাতে পিএসজি খুশি। অন্যদিকে নেইমারকে বছরে ১০ কোটি ইউরো বেতনের প্রস্তাব দিয়েছে আল হিলাল। অন্য কোনো রাস্তা না থাকায় নেইমারের বাবা – যিনি কিনা নেইমারের এজেন্টও – এই বিশাল বেতনের অঙ্ক আর হাতছাড়া করলেন না।