যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন পেলো হুয়াওয়ে

 
গাড়ির যন্ত্রাংশ উৎপাদন ব্যবসার জন্য অটো চিপ ক্রয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন পেয়েছে হুয়াওয়ে। এর মাধ্যমে হোয়াইট হাউজের কালো তালিকাভুক্ত চীনা প্রতিষ্ঠানটি কোটি ডলারের উপকরণ ব্যবসায় প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর রয়টার্স।

নেটওয়ার্কিং খাতের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও স্মার্টফোন উৎপাদনে হুয়াওয়ের কাছে চিপ ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল বাইডেন প্রশাসন। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা মুখ থুবড়ে পড়ে।

রফতানির ক্ষেত্রে বাইডেন প্রশাসনও হুয়াওয়ের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ আরো জোরদার করে আসছিল। ফাইভজি ডিভাইস উৎপাদনে চিপ বিক্রির আবেদন নাকচ করে আসছিল বাইডেন প্রশাসন।

সাম্প্রতিক সপ্তাহ এবং মাসগুলোতে আবেদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা জানান, ভিডিও স্ক্রিন এবং সেন্সরের মতো উপাদান সরবরাহে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে হুয়াওয়ের কাছে চিপ বিক্রির অনুমতি দিয়েছে যুত্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় এমন পণ্য উৎপাদন ও ব্যবসা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর পরই এ অনুমোদন দেয়া হলো।

গাড়ি উৎপাদনের জন্য যে চিপের প্রয়োজন, সেটি খুব বেশি আধুনিক নয়। তবে অনুমোদনের জন্য এর মান কমিয়ে দেয়া হয়। লাইসেন্স অনুমোদনের সঙ্গে জড়িত একটি সূত্র জানায়, ফাইভজি প্রযুক্তি সক্ষমতাসহ অন্যান্য উপাদান থাকতে পারে এমন যানবাহনের জন্য চিপ লাইসেন্স দিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন।

স্বয়ংক্রিয় গাড়ি উৎপাদনে লাইসেন্স প্রদান সম্পর্কে জানতে চাইলে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের একজন মুখপাত্র বলেন, সরকার ধারাবাহিকভাবে লাইসেন্স প্রদান নীতি প্রয়োগ করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতির জন্য যেসব বিষয় ক্ষতিকর, সেগুলোর কার্যক্রম রোধে হুয়াওয়েকে সব ধরনের আধুনিক সুবিধা, সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি থেকে দূরে রাখা হচ্ছে। ওই ব্যক্তি আরো জানান, লাইসেন্সে অনুমোদন প্রদান কিংবা বাতিল-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের ওপর নিষেধ রয়েছে। অন্যদিকে হুয়াওয়ের একজন মুখপাত্রও লাইসেন্স প্রাপ্তি বা এ বিষয়ে মন্তব্য প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।


তিনি বলেন, আধুনিক গাড়ি উৎপাদনে আমরা নিজেদের অন্যতম যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত করার চেষ্টা করছি। উৎপাদনকারীরা যেন আরো উন্নতমানের গাড়ি নির্মাণ করতে পারেন সেটিই আমাদের লক্ষ্য।

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ হুয়াওয়েকে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল। এর ফলে বিশেষ লাইসেন্স ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির কাছে মার্কিন পণ্য ও প্রযুক্তি বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়াও গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাইরে যেসব প্রতিষ্ঠান চিপ উৎপাদন করত তাদের পণ্য বিক্রিতেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। সেই সঙ্গে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে হুয়াওয়েকে তাদের ফাইভজি নেটওয়ার্ক থেকে বাতিলে প্রচারণাও চালায়। তবে হুয়াওয়ে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পর হুয়াওয়ে তাদের স্মার্টফোন ব্যবসার একটি অংশ বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়। যার ফলে ২০২১ সালের প্রথম প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির আয় মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়।

স্মার্ট গাড়ির উৎপাদনে জোর দেয়ার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির নতুন চেয়ারম্যান এরিক ক্সু চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেন। এর মধ্যে হুয়াওয়ে ইনসাইড নামে স্মার্ট ভেহিকল অপারেটিং